বলিউডে পারিবারিক প্রভাব লক্ষণীয়। মানে পাবিবারিকভাবে অভিনয় বা গানের জগতে অনেক শিল্পী উপহার পেয়েছে বলিউড। বলিউড সিনেমায় আমরা এর প্রভার বেশ দেখতে পাই। কিন্তু আজ বলব এমন কয়েকজন ভাইবোনের কথা যারা একসাথে জুটি বেঁধে বলিউড গানের জগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন...
লতা মুঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলে
ভারতীয় সংগীতের কথা বললে প্রথমেই যার কথা না বললেই নয়, তিনি হলেন সংগীত জগতের ভারতীয় নাইটিঙ্গেল লতা মুঙ্গেশকর। বলিউডের সর্বকালর শ্রেষ্ঠ গায়িকা বলা হয় তাকে। তার পরিবার থেকে তার ছোটো বোন আশা ভোঁসলে হয়ে উঠেছেন সংগীতের আরেক নক্ষত্র। তিনি ভারতীয় প্লেব্যাক গানের রানি হিসেবে পরিচিত। লতা এবং আশা সম্ভবত ভারতীয় সংগীতের সবচেয়ে আইকনিক বোন জুটি। তাদের প্রাণবন্ত সুরেলা কণ্ঠ অগণিত বলিউড ক্লাসিক উপহার দিয়েছে। অনেক কালজয়ী গানের স্রষ্টা এই বোনদ্বয়।

যতীন এবং ললিত
৯০-এর দশকে যে জুটি বলিউড পাড়ায় রাজত্ব করেছেন, তারা হলেন সংগীত পরিচালক ভাইদ্বয় যতীন ও ললিত। এই জুটি তাদের সুরেলা রচনাগুলোর জন্য পরিচিত। তাদের কিছু বিখ্যাত কাজের মধ্যে রয়েছে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘মহব্বতে’, ‘কাভি খুশি কাভি গম’ ইত্যাদি। যতীন এবং ললিত হরিয়ানা রাজ্যের হিসার জেলার পিলি মান্দোরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের পরিবার একটি সংগীত পরিবার বলা যায়। প-িত জসরাজ ছিলেন তাদের কাকা। তারা প্রাথমিকভাবে তাদের পিতা প-িত প্রতাপ নারায়ণের কাছ থেকে সংগীত শিক্ষা লাভ করেন। লক্ষ্মীকানাত-পেয়ারেলাল জুটির প্যারেলাল রামপ্রসাদ শর্মা তাদের গিটার এবং পিয়ানো শিখিয়েছিলেন। তারা ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দি সিনেমা ‘ইয়ারা দিলদারা’র সংগীত রচনা করে তাদের কর্মজীবন শুরু করেন।

সাজিদ এবং ওয়াজিদ
ভারতীয় সংগীত জগতে সাজিদ আলী ও ওয়াজিদ আলী বেশ পরিচিত নাম। বিখ্যাত সংগীত ওস্তাদ সরাফত আলীর পুত্র এরা। নিজ মেধায় তারা আজ ভারতের নামকরা সংগীত পরিচালক। সাজিদ-ওয়াজিদ বলিউড হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীত পরিচালক জুটি হিসেবে জনপ্রিয়। ভাই সাজিদ খান এবং প্রয়াত ওয়াজিদ খান দাবাং, ওয়ান্টেড, ওয়েলকাম, তেরে নাম এবং পার্টনারের মতো সিনেমার জন্য গান রচনা করেছেন। তাদের ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম’ এবং ‘টেলিভিশন রিসার্স সেন্টার অব এশিয়ান অ্যাকডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন’ কর্তৃক আজীবন সদস্যপদ দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।

আরমান মালিক এবং আমাল মালিক
পারিবারিকভাবে গানের নেশা তাদের রক্তে। দাদা সর্দার মালিক গানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আর চাচা অনু মালিককে নতুন করে পরিচয় দেওয়ার কিছু নেই। আরমান আর আমাল মালিক বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে দারুণ জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। আরমান মালিকের প্রাণবন্ত কণ্ঠ হৃদয়কে মোহিত করে, আর আমাল মালিকের সংগীতপ্রতিভা অবিস্মরণীয়। সা রে গা মা পা লিটল চ্যাম্পস-এর একজন প্রতিযোগী হিসেবে আরমান দর্শকদের ভোটের মাধ্যমে অষ্টম স্থান অধিকার করেছিলেন। আরমান মালিক বাণিজ্যিকভাবে ২০০-এর উপরে গান গেয়েছেন এবং ১৬টির মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। আর আমাল মালিক ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে সালমান খানের ‘জয় হো’ ছবির মাধ্যমে সংগীতের জগতে পা রাখেন। এরপর তিনি ‘খুবসুরত’ ছবির নায়না গানটির সংগীত পরিচালনা করেন।

সেলিম এবং সুলাইমান
সুরকার জুটি সেলিম এবং সুলাইমান মার্চেন্ট বলিউড, পপ এবং সুফি ঘরানার বিভিন্ন কম্পোজিশনের মাধ্যমে ভারতীয় সংগীতশিল্পে নিজেদের জন্য একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছেন। বলিউডে তাদের উল্লেখযোগ্য কজের মধ্য রয়েছে ‘আজা নাচলে, চাক দে’ ! ‘ইন্ডিয়া রব নে বানা দি জোড়ি’, ‘ফ্যাশন কুরবান ব্যান্ড বাজা বারাত’ ও ‘হিরোইন’। এছাড়া তারা হলিউডের সোল্ড চলচ্চিত্রের দু’টি গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন। সেলিম মার্চেন্ট সনি এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশনের ইন্ডিয়ান আইডলের পঞ্চম মৌসুমের তিনজন বিচারকের একজন ছিলেন। সেলিম-সুলেমান ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে হিন্দি চলচ্চিত্রের সুরারোপ করছেন। তাদের প্রথম কাজ ছিল সঞ্জয় গুপ্তের ‘হামেশা’। এরপর তারা ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে ‘ভিভা’, ‘আসমান’, ‘শ্বেতা শেঠী’, ‘জেসমিন ও স্টাইল’ ভাইয়ের একাধিক হিন্দি পপ অ্যালবামের সুর করেছেন।

নেহা কাক্কর, সোনু কাক্কর, এবং টনি কক্কর
বর্তমান সময়ে তরুণদের কাছে এই নামগুলো বেশ পরিচিত। এই ত্রয়ী ভাইবোন যুগল বর্তমানে দারুণ জনপ্রিয়। নেহা কাক্কর ইন্ডিয়ার আইডলের প্রতিযোগী ছিলেন। বর্তমানে তিনি এই প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে আছেন। বড়োবোন সনুও দারুণ গান করেন। আর ভাই টনি কাক্করও বোন নেহার সাথে দ্বৈতভাবে অনেক গান বলিউডকে উপহার দিয়েছেন। প্রতিটি ভাইবোন তাদের সংগীতে এক নিজস্ব ধারা তৈরি করেছেন যা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে।
লেখা : ফাতেমা ইয়াসমিন