ইসরাত জাহান স্বপ্ন ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

25 Jan 2026, 04:05 PM সংবাদ উপস্থাপক শেয়ার:
ইসরাত জাহান স্বপ্ন ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

টিভি সংবাদ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে স্পষ্ট উচ্চারণ, মিষ্টি কণ্ঠ, সাবলীল বাচনভঙ্গি, আকর্ষণীয় চেহারা এবং দর্শকপ্রিয়তা বা জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে যে-ক’জন সংবাদ উপস্থাপক এগিয়ে আছেন, যমুনা টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপক ইসরাত জাহান তাদের মধ্যে অন্যতম। তার উঠে আসার গল্প যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি সাহসের। এবারের আনন্দভুবনের সংবাদ উপস্থাপক বিভাগে ইসরাত জাহানকে নিয়ে লিখেছেন শহিদুল ইসলাম এমেল...

শুরুটা ছিল আকস্মিক

ইসরাত জাহানের সংবাদমাধ্যমে পদার্পণ বলা যায় কাকতালীয়ভাবেই। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক শেষ করে শিক্ষকতা বা করপোরেট চাকরির সন্ধানে ছিলেন তিনি। তবে অবচেতন মনে সংবাদ উপস্থাপনার প্রতি একটি সুপ্ত অনুরাগ ছিল সবসময়। সেই টান থেকেই বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সিভি পাঠিয়েছিলেন। এক বড়ো ভাইয়ের পরামর্শে সময় টেলিভিশনে সিভি জমা দেন এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ট্রেইনি রিপোর্টার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। যোগদানের কয়েক মাসের মাথায় অফিসের গ্রুমিং ও নিজের চেষ্টায় তিনি অন-এয়ারে আসেন। দুই বছর সময় টিভিতে রিপোর্টিং ও উপস্থাপনার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি যমুনা টেলিভিশনে যোগদান করেন।

শৈশবের সেই স্বপ্ন ও বাস্তবায়ন

ছেলেবেলায় বিটিভির সংবাদ পাঠকদের দেখে মুগ্ধ হতেন ইসরাত। তাদের বাচনভঙ্গি আর গম্ভীর কণ্ঠস্বর অনুকরণ করার চেষ্টা করতেন। যদিও তখন কল্পনাও করেননি যে, একদিন দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোয় নিজেকে এই অবস্থানে দেখতে পাবেন। আজ দেশের অসংখ্য মানুষ তার খবর শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন, যা তার জন্য বড়ো প্রাপ্তি।

জীবনযুদ্ধ ও পরিবারের সমর্থন

পেশাগত জীবনে ইসরাত জাহানের সবচেয়ে বড়ো শক্তি তার পরিবার। তিনি বলেন, ‘বাবা-মা, বড়ো বোন এবং স্বামীর অকুণ্ঠ সমর্থনে আমি আজ এখানে আসতে পেরেছি। যখন প্রেজেন্টেশন শুরু করি, আমার সন্তানের বয়স ছিল মাত্র ১৭ মাস। সেই চ্যালেঞ্জিং সময়েও আমার পরিবার পাশে দাঁড়িয়েছে। অদ্ভুত হলেও সত্য, ভোর ৪টায় বের হওয়া বা রাত ১টায় ফেরার জীবনে আমি কখনো কারও থেকে কটু কথা শুনিনি।’

একজন সফল উপস্থাপকের গুণাবলি 

ইসরাত জাহানের মতে, একজন সফল সংবাদ উপস্থাপক হতে হলে কেবল সুন্দর চেহারা থাকলেই চলে না, বরং তার ব্যক্তিত্ব, স্পষ্ট উচ্চারণ ও সাবলীল বাচনভঙ্গি দর্শকদের সংবাদের সাথে যুক্ত করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

এছাড়া স্মার্টনেস  দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা। এই বিষয়গুলো একজন প্রেজেন্টারকে অন্যদের থেকে সহজেই আলাদা করে।

ইসরাত জাহান নিজে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স না করলেও অফিসের ফাঁকে নিউজ প্যাডেল চালানো, নিয়মিত পত্রিকা পড়া এবং নিজের ভুল থেকে শেখার মাধ্যমেই নিজেকে দক্ষ করে তুলেছেন।

বিব্রতকর পরিস্থিতি ও পেশাদারিত্ব

সংবাদ পাঠ করতে গিয়ে অনেক চড়াই-উতরাই রয়েছে তার। একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখেন কণ্ঠ একেবারেই রুদ্ধ, অথচ হাতে নিউজ। বিকল্প কেউ না থাকায় ভাঙা গলা নিয়েই সংবাদ পড়তে হয়েছে তাকে। দর্শকদের ভালোবাসা আর সহমর্মিতা সেই কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য

সংবাদ উপস্থাপনার পাশাপাশি ইসরাত জাহান একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্স রাইটার হিসেবেও পরিচিত। তবে তার মূল লক্ষ্য নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ সংবাদকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। সংবাদকে কেবল পড়া নয়, বরং এর প্রতিটি স্তরকে বোঝা ও শেখার মধ্যেই তিনি সার্থকতা খুঁজে পান।

অবসরের সঙ্গী

কাজের ব্যস্ততার বাইরে ইসরাত জাহান গান শুনতে এবং নিজের যত্ন নিতে পছন্দ করেন। প্রকৃতির সান্নিধ্য ও সমুদ্র তার দারুণ প্রিয়। সব মিলিয়ে কর্ম ও ব্যক্তিজীবনের এক অসাধারণ ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে চলছেন তিনি।