মডেলিং দিয়ে মিথিলার যাত্রা শুরু। এরপর টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেও সাড়া পান। দেশের পাশাপাশি ভারতীয় বাংলা সিনেমায় অভিনয় করেও পেয়েছেন দর্শকপ্রিয়তা। তার ওটিটির কাজও প্রশংসা কুড়িয়েছে। সেইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে যুক্ত থেকে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন।
ব্র্যাকের সঙ্গে দুই দশকের কর্মজীবন শেষে এবার যুক্তরাষ্ট্রের কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কে শিক্ষকতাও শুরু করেছেন তিনি। নিজের নতুন পেশাগত যাত্রার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন মিথিলা।
সেখানে তিনি জানান, ব্র্যাকের সঙ্গে তার দুই দশকের সম্পর্কের মধ্যে ১৫ বছর কেটেছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের হয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে কাজ করে। এবার তিনি কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ’-এ অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
নতুন দায়িত্বে মিথিলা নিউ ইয়র্কভিত্তিক ‘আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব’ উদ্যোগের নকশা ও মূল্যায়নে নেতৃত্ব দেবেন বলে জানান। প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা ও কমিউনিটি স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করবে এই উদ্যোগ। জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু ও তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, সেবা ও সহায়ক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
কখনো অভিনয়ে কখনো গানে কখনো আবার মডেলিংয়ে সাবলীল অভিনয় দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী, মডেল, কণ্ঠশিল্পী, শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নকর্মী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। প্রায় দুই দশক ধরে দাপটের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন তিনি। গুণী এই অভিনেত্রী অক্টোবর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট’ [গবেষক] হিসেবে এবং একইসঙ্গে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কে ‘অ্যাডজাংক্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’ হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করে ক্যারিয়ারে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন খাতেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন তিনি। এবার পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন তিনি। নিজের নতুন পেশাগত যাত্রার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে মিথিলা লিখেন, ব্র্যাকের সঙ্গে প্রায় দুই দশকের অভিজ্ঞতার পর নতুন এই অধ্যায়ে পা রাখছেন তিনি। ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের হয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে ১৫ বছর ধরে কাজ করছেন মিথিলা।
মিথিলা বলেন, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ’-এ অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করব। নতুন দায়িত্বে নিউ ইয়র্কভিত্তিক ‘আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব’ প্রকল্পের নকশা ও মূল্যায়নে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কেও শিক্ষকতা শুরু করেছেন তিনি। সেখানে ‘অ্যাডজাংক্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’ হিসেবে ‘ননপ্রফিট ম্যানেজমেন্ট’ পড়াবেন তিনি। শিক্ষার্থীদের বাস্তব জগতের ননপ্রফিট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়াও তার পাঠদানের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন এই পেশাগত যাত্রায় ব্র্যাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মিথিলা। একইসঙ্গে কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অবকাঠামো এবং গবেষকদের সঙ্গে কাজের সুযোগকে নিজের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, অভিনয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন খাতে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবার গবেষণা ও শিক্ষকতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সেই পেশাগত যাত্রায় যুক্ত হলো নতুনমাত্রা।
প্রকল্পটি প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে। জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়েসি শিশুদের পরিবারকে শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়ক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। নিজের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রকল্পটিতে অবদান রাখার প্রত্যাশা করছেন মিথিলা। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে গবেষণার লক্ষ্যকে সমন্বয় করা এবং তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার কাজ করবেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩ আগস্ট সংগীতশিল্পী তাহসান খানকে বিয়ে করেছিলেন মিথিলা। দীর্ঘ ১১ বছর সংসারের পর ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাইয়ে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এর আগেও সৃজিত একাধিক বিয়ের বন্ধনে জড়ান।
এছাড়া কাজ করেছেন শিশুতোষ সিনেমা ‘নুলিয়াাছড়ির সোনার পাহাড়’ ছবিতে। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘জ্বলে জ্বলে তারা’, ‘কাজল রেখা’ সিনেমায়।
মিথিলা অভিনীত সবশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ও অভাগী’। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্প অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন কলকাতার অণির্বাণ চক্রবর্তী। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিথিলা।