পারভেজ চৌধুরী
১৯ মে সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বাংলাদেশের অন্যতম আবৃত্তি সংগঠন মুক্তবাকের নিয়মিত আবৃত্তি আয়োজন "স্বপ্নঘুড়ি দিলাম ছাড়ি" অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তবাকের কর্ণধার বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ইকবাল খোরেশেদের কণ্ঠে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "দুঃসময়" কবিতার আবৃত্তি ও সূচনা বক্তব্যের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এটি ‘স্বপ্নঘুড়ি দিলাম ছাড়ি’ ঊনবিংশতিতম নিবেদনডালি।
অনুষ্ঠানে প্রথম পরিবেশনা "নবহরিতের গান" পর্বে একক আবৃত্তি উপস্থাপন করেন মুক্তবাকের আবৃত্তিশিল্পী অমিয়া অমানিতা, আসাদুজ্জামান, ইরাম মাহফুজা, রায়হান হায়দার রঞ্জন, রহমত আরা বেগম লিপি, আশরাফ আলী সরকার লিখন।

রুবিনা শাহনাজ রুপা
দ্বিতীয় পরিবেশনা "আলোসাগরের গান" পর্বে একক আবৃত্তি উপস্থাপন করেন মুক্তবাকের অন্যতম সংগঠক রুবিনা শাহনাজ রুপা। তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত শেষ সপ্তক কাব্যগ্রন্থের "চব্বিশ" শীর্ষক কবিতার আবৃত্তির মাধ্যমে তার পরিবেশনা শুরু করেন। এরপর তিনি একে একে কবি বীথি চট্টোপাধ্যায়ের মা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মনে পড়া, লুৎফর রহমান রিটনের শিরোনামহীন ছড়া, রোকসানা শাহনাজ চুমকির মুক্তি, বুদ্ধদেব বসুর কালিদাসকে খোলাচিঠি, নির্মলেন্দু গুণের নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ, নাসিমা সুলতানার ঠাকুরদার বাড়ি, অরুণ মিত্রের ও বেহুলা, রাসেল আসাদের সাহস আছে কি সামনে দাঁড়াবার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বারাঙ্গনা কবিতার আবৃত্তি করে শোনান।
তৃতীয় পরিবেশনা "অনুসূর্যের গান" পর্বে অতিথি শিল্পী হিসেবে একক আবৃত্তি উপস্থাপন করেন দেশের বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী পারভেজ চৌধুরী। তিনি জীবনানন্দ দাশের বাংলার মুখ কবিতায় বাংলাদেশের রূপ বর্ণনার মাধ্যমে তার পরিবেশনা শুরু করেন। এরপর তিনি কবি মুহাম্মদ সামাদের একটি যুবক, জীবনানন্দ দাশের কেমন বৃষ্টি ঝরে, জয় গোস্বামীর দুই বোনের কবিতা, সুজন বড়ুয়ার যেতে যেতে, সৈয়দ শামসুল হকের আকবর হোসেনের জন্য গান কবিতার আবৃত্তি উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কণ্ঠশিল্পী আশরাফুল আলম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ রেজা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশাররফ হোসেন, আবৃত্তিশিল্পী আজহারুল হক আজাদ, কাজী মাহতাব সুমন, রাশেদ হাসান, সৈয়দ ফয়সাল আহমদ, সোহেল আনোয়ার, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি, শিরিন ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান পারভেজ, সুপ্রভা সেবতী, নাসিমা খান বকুল, নীলা হাসান, কাজী রাজেশসহ হলভর্তি দর্শক মুগ্ধ হয়ে আবৃত্তি উপভোগ করেন।

লিখন, লিপি, রঞ্জন, ইরাম, আসাদুজ্জামান, অমিয়া
মুক্তবাকের কর্ণধার ইকবাল খোরশেদ বলেন, ‘স্বপ্নঘুড়ি দিলাম ছাড়ি’ আমাদের সংগঠনের নিয়মিত আয়োজন। বছরে চারটি আয়োজন আমরা করে থাকি। এ আয়োজনে সংগঠনের তরুণ কয়েকজন শিল্পী যেমন একটি করে কবিতা আবৃত্তি করেন। সংগঠনের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ শিল্পী বেশকিছু কবিতা শোনান। এছাড়া বরেণ্য একজন আবৃত্তিকার আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে তার পছন্দের বেশকিছু কবিতা আবৃত্তি করেন। এর মাধ্যমে বরেণ্য শিল্পীদের সাথে তরুণ শিল্পীদের সেতুবন্ধন তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণ শ্রোতা আবৃত্তিশিল্পী হিমেল মাহমুদ অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, মুক্তবাকের আয়োজন নান্দনিক। নবীন তরুণ পৌঢ়ত্বের মিশ্রণে বিন্যাসিত এই আয়োজন সাংগঠনিক চর্চায় অনুকরণীয়। আমরা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছি।
বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ও প্রশিক্ষক কাজী মাহতাব সুমন তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, পরিমিত আয়োজন ছিল। শেষ পর্যন্ত শ্রোতা মন দিয়ে শুনেছে। এমন আয়োজন বেশি বেশি হওয়া প্রয়োজন।