দিলদার মনেই হাস্যরসপূর্ণ এক চরিত্রের নাম।দিলদার যখন ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান সেই সময় কেউ কাউকে কথার মাধ্যমে হাসালেই তাকে 'দিলদার' উপাধি দেওয়া হতো। সিনেমা জগতের সেই হাসির সম্রাট দিলদার আজ ২১ বছর হয়ে গেল তার অসংখ্য ভক্তদের মাঝে নেই। জানা যায়, প্রযোজকদের কাছে এখনো দিলদারের লাখ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ছিল তুখোড় কমেডি চলচ্চিত্র অভিনেতা দিলদারের ২১তম প্রয়াণ দিবস। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ৫৮ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে তাকে চলে যেতে হয়।
দিলদার ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিকভাবে তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ও দুই কন্যা বেঁচে আছেন।
১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে 'কেন এমন হয়' নামের চলচ্চিত্র দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেন দিলদার। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। অভিনয় করেছেন 'বেদের মেয়ে জোসনা', 'বিক্ষোভ', 'অন্তরে অন্তরে', 'কন্যাদান', 'চাওয়া থেকে পাওয়া', 'সুন্দর আলীর জীবন সংসার', 'স্বপ্নের নায়ক', 'আনন্দ অশ্রু', 'শান্ত কেন মাস্তান'সহ বহু জনপ্রিয় সিনেমায়।
দিলদারের জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখে নির্মাণ করা হয়েছিল 'আব্দুল্লাহ' নামে একটি চলচ্চিত্র। নূতনের বিপরীতে এই ছবিতে বাজিমাত করেছিলেন তিনি। দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ছবির গানগুলো।
সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে'তুমি শুধু আমার' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাদে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করেন। জীবনভর অভিনয় করে যে বছর সেরার স্বীকৃতি পেলেন সে বছরই তিনি দেশ বিদেশে বাংলা ছবির কোটি কোটি দর্শককে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে চিরবিদায় জানান। দিলদারের স্থান এখন পর্যন্ত কেউ পূরণ করতে পারেনি। বাংলা চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে আজও তার নাম স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।