প্রতিবছরের মতো এবারের ঈদেও বড়োপর্দার পাশাপাশি ছোটোপর্দায় ছিল উৎসবের আমেজ। সারাবছর টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য নাটক নির্মিত হলেও, ঈদকে কেন্দ্র করে সেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় বহুগুণ। এ বছরও ঈদ উপলক্ষ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক নাটক ও টেলিফিল্ম প্রচারিত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্মাতাদের কাছে ঈদ এখন কেবল উৎসব নয়, বরং আয়ের বড়ো একটি উপলক্ষ্য। তবে, অগণিত এই নাটকের ভিড়ে ভালো কিছু নাটক যেমন আছে তেমনি আছে মানহীন কাজের আধিক্য। ঈদ পেরিয়ে দুই সপ্তাহ পার হলেও অল্প সংখ্যক নাটক এখন দর্শক মহলে প্রশংসা ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সে-সব নাটক নিয়েই এবারের আকাশলীনা আয়োজন ...
তারকাদের ব্যস্ততা ও আধিপত্য
এবারের ঈদের নাটকে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন ছোটোপর্দায় বর্তমান সময়ের তুমুল জনপ্রিয় দুই অভিনেতা জোভান আহমেদ ও মুশফিক আর ফারহান। সংখ্যার বিচারে যেমন তারা এগিয়ে, তেমনি গল্পের বৈচিত্র্যেও তারা দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। এছাড়া চিরচেনা মোশাররফ করিম, অপূর্ব, নিলয় আলমগীর, আ খ ম হাসান, খায়রুল বাসার, তৌসিফ মাহবুব, ইয়াস রোহান, পলাশ ও আরশ খানদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
অভিনেত্রীদের মধ্যে কেয়া পায়েল, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি এবং নাজনীন নীহাকে দেখা গেছে সর্বাধিক সংখ্যক নাটকে। পিছিয়ে ছিলেন না তানজিন তিশা, সুনেরাহ বিনতে কামাল, সাফা কবির, আইশা খান, তানিয়া বৃষ্টি ও পারশা ইভানারাও।
আলোচনার তুঙ্গে থাকা কিছু নাটক
পরিবার ও সম্পর্কের চিরাচরিত টানাপোড়েন সবসময়ই বাঙালির প্রিয় বিষয়। নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফ্যামিলি ম্যান’ নাটকটি এবার সেই আবেগকে স্পর্শ করেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের ঈদ ও রমজানের নিখুঁত বাস্তবতা উঠে এসেছে এই নাটকে। জোভান ও তটিনীর রসায়ন এবং মনিরা মিঠুর দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকদের আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। বিশেষ করে, পরিবারের প্রতি নিবেদিত এক তরুণের চরিত্রে জোভানের অভিনয় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে দর্শকদের মনে।
অন্যদিকে, জোভান ও নীহা জুটির ‘গুড লাক’ রোমান্টিক ঘরানার হলেও এর গভীর জীবনবোধ দর্শকদের নজর কেড়েছে। ইউটিউবে মুক্তির মাত্র দুই দিনেই নাটকটি আড়াই মিলিয়ন ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এছাড়া জোভানের ‘মন ফড়িং’, ‘আপনজন’, ‘প্রিয় নামে ডাকো’, ‘এক মুঠো সুখ’ এবং কেয়া পায়েলের সঙ্গে অভিনীত ‘বাতাসের ফুল’ নাটকগুলো ভিউ ও মানÑ উভয় দিক থেকেই সফল।
প্রতিভার জয়গান
মুশফিক আর ফারহান আবারও নিজেকে ভেঙে নতুন রূপে হাজির হয়েছেন। বিশেষ করে সাফা কবিরের সঙ্গে ‘লেলিন’ নাটকে তার লুক ও অভিনয় ছিল অনবদ্য। তটিনীর সঙ্গে তার ‘জামাল কবিরাজ’ নাটকটিও ছিল ঈদের অন্যতম আলোচিত কাজ।
ঈদের নাটকের এই বিশাল সমারোহে আরো যে-সব কাজ আলাদাভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে সেগুলো হলো-
পলাশ ও কেয়া পায়েলের ‘আইরা’, তৌসিফ ও তটিনীর ‘বেশি বলে বুলবুলি’, খায়রুল বাসার ও সুনেরাহর ‘ডিয়ার ফ্যামিলি’, অপূর্ব ও নেহার ‘মেঘ বালিকা’, ফজলুর রহমান বাবুর ‘সেই আমি নেই আমি’।

মোশাররফ করিম : চিরকালই অনন্য
নতুন প্রজন্মের দাপটের মাঝেও নিজের সিংহাসন অটুট রেখেছেন শক্তিমান অভিনেতা মোশাররফ করিম। কমেডি ও সামাজিক গল্পের মিশেলে তার অভিনীত ‘চেয়ারম্যানের বিয়ে’, ‘ডাক্তারের বিয়ে’, ‘সংসার জ্বালা’, ‘ফুটানি বাবু’ এবং ‘ডাবল চক্কর’ নাটকগুলো দর্শককে হাসানোর পাশাপাশি ভাবিয়েছেও বটে। তার অভিনীত কাজগুলো বরাবরের মতোই ইউটিউব ট্রেন্ডিং ও চায়ের আড্ডার আলোচনার রসদ জুগিয়েছে।
শেষ কথা
পাঁচ শতাধিক নাটকের এই মহোৎসবে অনেক কাজই হয়তো ভিউয়ের দৌড়ে হারিয়ে যাবে, কিন্তু যে কাজগুলো জীবনের কথা বলেছে, সম্পর্কের গভীরতা ছুঁয়েছেÑ সেগুলোই টিকে থাকবে দর্শকের হৃদয়ে। সংখ্যার লড়াই ছাপিয়ে আগামীদিনে নাটকের মানের জয় হবেÑ এমনই অগণিত দর্শকদের প্রত্যাশা। হ
লেখা : জিয়াসমিন ইসলাম জেলী