প্লেব্যাকই হবে সেনিজের সুরের নতুন ঘর

20 Apr 2026, 03:30 PM কাভার গার্ল শেয়ার:
প্লেব্যাকই হবে সেনিজের সুরের নতুন ঘর

বর্তমান প্রজন্মের সংগীতাঙ্গনে যে-ক’জন শিল্পী তাদের গায়কি এবং মিউজিক সেন্স দিয়ে শ্রোতাদের নজর কেড়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম তানিশা ইসলাম সেনিজ। কণ্ঠের মাধুর্য আর গানের প্রতি একনিষ্ঠতা তাকে খুব অল্প সময়েই সংগীতাঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে গেছে। সেনিজের এগিয়ে চলা, সাফল্য ও পরিকল্পনার কথা লিখেছেন শেখ সেলিম...


শৈশব থেকেই সুরের আবহে বেড়ে ওঠা সেনিজের। পারিবারিকভাবেই গানের প্রতি তার এক গভীর অনুরাগ তৈরি হয়। যদিও পরিবারের কেউ সংগীতাঙ্গনে জড়িত নন, তবে সবাই গান ভালোবাসেন। স্কুলজীবন থেকেই গানের সাথে বসবাস সেনিজের। সুরেলা কণ্ঠ, শিক্ষকরা জানতেন, তাই স্কুলে প্রতিযোগিতা শুরু হলেই অন্যান্য শাখায় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি গানের শাখায় প্রতিযোগিতা করতেন সেনিজ। সেনিজের বেড়ে ওঠা সিরাজগঞ্জ শহরে। সেখানেই ওস্তাদ আমিরুল ইসলামের কাছে গানের তালিম নেন।

এরপর ক্ষুদে গানরাজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ব্যস, গানের সঙ্গে বেশ পাকাপোক্ত সম্পর্ক হয়ে যায় সেনিজের। প্রথাগত তালিম নেওয়ার পাশাপাশি নিজের গায়কিকে ক্রমাগত ঝালিয়ে নিয়েছেন তিনি। শুধু দেশীয় ঘরানা নয়, আধুনিক ও ক্লাসিক্যাল মিউজিকের সংমিশ্রণে তার গায়কি শ্রোতাদের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্যতা পায় অল্প সময়ের মধ্যে।

বিভিন্ন রিয়েলিটি শো এবং লাইভ পারফর্মেন্সের মাধ্যমে সেনিজ তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে তার প্রকাশিত মৌলিক গান ও কভারগুলো তরুণ প্রজন্মের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। তার গাওয়া গানগুলোয় যেমন আবেগের ছোঁয়া থাকে, তেমনি সুরের নিখুঁত বুননও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সেনিজ মনে করেন, গানের কথার পাশাপাশি মেলোডিতে ভিন্নতা আনা জরুরি। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন নতুন নতুন মৌলিক গানের কাজ নিয়ে। বিভিন্ন নামি মিউজিক ডিরেক্টর ও গীতিকারদের সাথে কাজের সমন্বয় তাকে ইন্ডাস্ট্রিতে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দিচ্ছে।

সংগীত নিয়ে অনেক বড়ো স্বপ্ন দেখেন এই শিল্পী। তিনি চান বাংলা গানকে বিশ্বদরবারে আরো জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কিছু মানসম্পন্ন কাজ উপহার দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য।

‘গান আমার কাছে কেবল শখ নয়, এটি আমার সাধনা। আমি চাই, এমন কিছু গান গাইতে যা শ্রোতাদের হৃদয়ে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে।’

সুরের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকলে এবং সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তানিশা ইসলাম সেনিজ যে, আগামীদিনের বাংলা গানের অন্যতম কা-ারি হয়ে উঠবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

স্বপ্ন যখন আকাশছোঁয়া আর কণ্ঠ যখন সুরের মায়ায় জড়ানো, তখন গন্তব্য তো হবেই রুপালি জগৎ। তরুণ প্রজন্মের সুকণ্ঠী গায়িকা তানিশা ইসলাম সেনিজ। ছোটোপর্দা আর মিউজিক ভিডিওর গ-ি পেরিয়ে তার দৃষ্টি এবার বড়োপর্দায়। এবার তিনি নিজেকে মেলে ধরতে চান পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বিশাল ক্যানভাসে। চলচ্চিত্রের গানে নিয়মিত হওয়ার দৃপ্ত প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছেন এই সুরের জাদুকরী।

প্লেব্যাক প্রসঙ্গে সেনিজ বলেন, প্রবীণদের পাশাপাশি এখানে নতুনদের সুযোগ দেওয়া উচিত। যদিও কেউ কেউ পাচ্ছেন কিন্তু সংখ্যা খুবই কম।

স্টেজ শো সম্পর্কে বলেন, স্টেজ শো হচ্ছে, আগের চেয়ে কম। তবে, ইনডোর শো কিন্তু নিয়মিতই হচ্ছে। সেনিজ সবশেষ শো করেছেন ফেব্রুয়ারিতে।

কোন ধরনের ছবিতে গান গাইতে চান জানতে চাইলে সেনিজ বলেন, সবধরনের সিনেমায়ই প্লেব্যাক করতে চাই। তবে, যেসব ছবি দর্শক বেশি দেখেন এবং ছবির গল্পের সাথে মিলেমিশে যে গানগুলো দর্শকদের মুখে মুখে ফেরে, তেমন গানেই কণ্ঠ দিতে চাই।

চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক সেনিজের এই নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছা সংগীতাঙ্গনের জন্য এক নতুন সম্ভাবনা। তার কণ্ঠের মাধুর্য আর বড়ো বাজেটের ছবির জৌলুস মিলেমিশে এক অনন্য ধারায় তৈরি হবে এমনটাই প্রত্যাশা সংগীতপ্রেমীদের। স্বাগত সেনিজ, বড়োপর্দার সুরের রানি হয়ে ওঠার এই মিছিলে।

এবারের ঈদে সেনিজের লেজার ভিশনের ব্যানার থেকে ‘তোমারই টানে’ শিরোনামের একটি রোমান্টিক ধাঁচের গান প্রকাশ পায়, লেজার ভিশন ইউটিউব চ্যানেলে। গানটিতে সেনিজের সাথে কণ্ঠ দেন প্রত্যয়। গানটি প্রকাশের পর দর্শকের কাছ থেকে প্রসংশা পান। এছাড়া বৈশাখ উপলক্ষ্যে ১৫ এপ্রিল প্রকাশ পাবে ‘কান পেতে শোন’ শিরোনামের একটি গান। গানটিতে সেনিজের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন ফাহাদ আজিজ। এছাড়া নাভেদ পারভেজ ভাইয়ের সংগীতায়োজনে আরো একটি গান খুব শিগ্গিরই প্রকাশ পাবে। আমি একই ধরনের গানে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। সবধরনের গানই আমার ভালো লাগে, যেকোনো গানের সুর আমাকে আগে টানে, সেটা ফোক হতে পারে বা আধুনিক হতে পারে, সুরটা ভালো লাগলে গান যে-ঘরানারই হোক গাইতে ভালো লাগে। তবে, ক্ল্যাসিকাল গান একটু বেশি টানে।

কীভাবে সংগীতে এলেন, এই প্রসঙ্গে সেনিজ বলেন, পরিবার আমার গান গাওয়াকে খুব পছন্দ করে। তারাই আমাকে অনুপ্রেরণা দেন। আমার গানের শিক্ষক আমিরুল ইসলাম, পরিবার ও আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের উৎসাহে আমি প্রথম চ্যানেল আই আয়োজিত রিয়েলিটি শো ক্ষুদে গানরাজ-এ অংশগ্রহণ করি। এই প্রতিযোগিতার পর থেকেই আমার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। আমার একটি একক অ্যালবামও প্রকাশ পায়। তবে, সেনিজকে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি এনে দেয় আরফিন রুমির সঙ্গে গাওয়া ‘প্রাণ বন্ধুয়া’ ও ইমরান মাহমুদুলের সঙ্গে গাওয়া ‘একই পথে চলনারে’ গান দু’টি। এছাড়া শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন লোকগান ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘কইলজার ভিতর গাঁথি’, ‘কমলায় নৃত্য করে’, ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’ প্রভৃতি জনপ্রিয় গান গেয়ে।

সেনিজ যতটুকু গানের রেয়াজ করেন, তারচেয়ে বেশি গান শোনেন। সবধরনের গানই তিনি শোনেন, এবং গাইতেও পারেন। নিজের প্রতি খুব আত্মবিশ্বাসী সেনিজের মূল ধ্যান-জ্ঞান গান নিয়ে। গান তার জীবনের সঙ্গে এতই মিশে গেছে যে, গানই তার ভালো বন্ধু। আধুনিক, ক্ল্যাসিকাল ও ফোক গান বেশি গাইলেও নজরুলসংগীত সেনিজকে বেশি টানে।

সেনিজের আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে যার সবচেয়ে বেশি অবদান, তিনি হলেন সেনিজের মা। মা’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেনিজ বলেন, আমি হয়ত গানটাই করি, কিন্তু পেছনে অনেক কিছুই রয়েছে, ড্রেসআপ, মেকআপ যা আম্মু আমাকে সাহায্য করেন। শুধু তাই নয়, আমাকে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিয়ে থাকেন।

গান নিয়ে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলেন, আমার সবসময় একটা স্বপ্ন, শ্রোতাদের ভালো ভালো গান উপহার দেওয়া। আমি সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। এই বছরে ইতোমধ্যে আমার চারটি গান প্রকাশ পেয়েছে। গান আরো বাড়াতে চাই সর্বোপরি দর্শকের কাছাকাছি থাকতে চাই।

সেনিজের বাবা একজন আইনজীবী, বাবার উৎসাহেই সেনিজ এই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে, তার স্বপ্ন ছিল সিএ পড়ার। আইন বিষয়ে পড়তে এসে তার ভালো লেগে যায়।

গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি উপস্থাপনায় নিজেকে তুলে ধরছেন তিনি। দু’টি গানবিষয়ক অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করে প্রশংসিত হন তিনি। সেনিজের একটি ইউটিউব চ্যানেলও রয়েছে। সেখানে তার মৌলিক গানগুলো রয়েছে। চ্যানেলটি নিয়ে আগামীদিনে অনেক স্বপ্ন রয়েছে তার।

সংগীতাঙ্গনের এই নক্ষত্রের জন্য শুভকামনা নিরন্তর... 

ছবি : জাকির হোসেন