ব্রোমলিবী আর্লি ইয়ার্স-এ ফিরে দেখা বৈশাখীমেলা

20 Apr 2026, 03:32 PM খবর শেয়ার:
ব্রোমলিবী আর্লি ইয়ার্স-এ ফিরে দেখা বৈশাখীমেলা

বাংলাদেশের বড়ো শহরগুলোতে, বিশেষ করে ঢাকায় বসবাসকারীদের কাছে নগরজীবন যেন একটানা ছুটে চলা। হর্নের শব্দে ভরা রাস্তা, দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যাম, আর ঘড়ির কাঁটা ধরে সাজানো প্রতিটি দিন। এখানে শিশুদের শৈশবও ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। খেলার মাঠের জায়গা নিচ্ছে অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দা, বন্ধুরা হয়ে যাচ্ছে স্ক্রিনের ভেতরের চরিত্রগুলো, আর বিকেলের খেলাধুলা দখল করে নিচ্ছে টিভি আর ইলেকট্রনিক ডিভাইসের নীরব সঙ্গতে। অনেক সময় তারা বুঝতেই পারে না, কখন চুপিচুপি ফুরিয়ে যায় তাদের শৈশবের সেই নির্ভেজাল, অবাধ আনন্দ ; অজান্তেই যেন চুরি হয়ে যায় শৈশব।

এই বাস্তবতার মাঝেই বাংলা নববর্ষ নিয়ে আসে এক ভিন্ন আবহ। লাল-সাদা রং, পয়লা বৈশাখের সুর আর মেলার প্রাণচঞ্চলতায় চারপাশ ভরে ওঠে বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর নতুন সূচনার আনন্দে। এই উৎসব শহুরে শিশুদের জন্য খুলে দেয় এক নতুন অভিজ্ঞতার জগৎ।

সেই অনুভূতিকে বাস্তব করে তুলতেই ব্রোমলিবী আর্লি ইয়ার্স আয়োজন করেছিল এক মনোমুগ্ধকর ‘বৈশাখি মেলা’, যেখানে শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকরাও হয়ে উঠেছিলেন এই আনন্দময় অভিজ্ঞতার অংশীদার। শনিবার, [১৮ এপ্রিল] বিকেলে ব্রোমলিবী’র ক্যাম্পাস যেন একেবারে অন্যরকম হয়ে উঠেছিল। ছুটির দিন, লাল-সাদা সাজ, আলপনার নকশা, আর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা উৎসবের নানা আয়োজন- সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, শহরের ভেতরেই যেন ছোট্টো একটি গ্রামীণ মেলা বসেছে। শিশুদের জন্য ছিল নানা ধরনের খেলা আর মজার সব আয়োজন। হাসি-আনন্দ আর ছোটো ছোটো প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তারা শুধু চমৎকার কিছু সময়ই কাটায়নি, বরং শিখেছে আত্মবিশ্বাস, সাহস আর একসাথে কাজ করার আনন্দ। মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাংলার কিছু ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ, টিয়া পাখির ভাগ্য গণনাসহ আরো অনেক কিছু যা শিশুদের জন্য ছিল নতুন অভিজ্ঞতা, আর অনেক অভিভাবকের জন্য ফিরিয়ে এনেছিল শৈশবের স্মৃতি। খাবারের স্টলগুলোতেও ছিল বৈচিত্র্য। পিঠা, মিষ্টি এবং ঐতিহ্যবাহী স্বাদের ছোটো ছোটো আয়োজন, যা পরিবারগুলোর জন্য সময়টাকে আরো উপভোগ্য করে তুলেছিল।

এই আয়োজনটি শুধু একটি উৎসব ছিল না। বরং এটি যেন ছিল ব্রোমলিবী’র শিক্ষা ও যতেœর দর্শনের এক প্রতিফলন। ব্রোমলিবী আর্লি ইয়ার্স একটি ব্রিটিশ-প্রেরণায় পরিচালিত আর্লি ইয়ার্স সেন্টার, যেখানে প্রতিটি শিশুর স্বাতন্ত্র, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক বিকাশকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও যতœশীল পরিবেশ তৈরি করা হয়। তাদের বিশ্বাস, শেখা শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অভিজ্ঞতা, আনন্দ এবং সংস্কৃতির মধ্য দিয়েই শিশুরা সবচেয়ে ভালোভাবে শেখে, বেড়ে ওঠে এবং নিজেদের মতো করে বিকশিত হয়।

ব্রোমলিবী’র সুনিপুণ উপস্থাপনায় বৈশাখী এই মেলাটি তাই শুধু একটি দিনের আয়োজন নয়, এটি ছিল এক অনুভূতি, যেখানে শৈশব, পরিবার, সংস্কৃতি একসাথে মিলেমিশে তৈরি করেছে এক সুন্দর, স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। 

লেখা : দেওয়ান জাভেদ আশরাফী [জয়ন্ত]