বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সাবরিনা পড়শী। ছেলেবেলায় নাচের প্রতি প্রচ- আগ্রহ থাকার কারণে নাচ শেখেন তিনি। পরবর্তীসময়ে ক্লাসিক্যাল সংগীত শেখায় মনোনিবেশ করেন। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে সরকারিভাবে আয়োজিত ‘কমল কুড়ি’ সংগীত প্রতিযোগিতায় দেশের গান বিভাগে বিজয়ী হন পড়শী। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে সংগীত রিয়েলিটি শো ‘ক্ষুদে গানরাজ’ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ নির্বাচিত হন। ওই প্রতিযোগিতার পর থেকেই রিলিজ হতে থাকে বেশ কয়েকটি অডিও অ্যালবাম। পাশাপাশি কণ্ঠ দিতে থাকেন একের পর এক সিনেমার গানে। এ পর্যন্ত দুশো’র বেশি সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন পড়শী। গানের পাশাপাশি নাটকেও অভিনয় করছেন তিনি। পড়শীকে নিয়ে লিখেছেন শহিদুল ইসলাম এমেল...
পড়শী ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে সংগীত রিয়েলিটি শো ‘ক্ষুদে গানরাজ’-এ দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার পর থেকেই মূলত পরিচিতি পেতে শুরু করেন। বলতে গেলে সংগীতের শুরুটা তখন থেকেই। এর পরের বছর ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘পড়শী’ রিলিজ হয়। অ্যালবামটি সবশ্রেণির শ্রোতাদের কাছে সাড়া জাগায়। বাড়তে থাকে তার জনপ্রিয়তা। তখন থেকেই সিনেমার গানে কণ্ঠ দিতে শুরু করেন। এরপর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘পড়শী-২’। ২০১৩-এর ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় তার ‘পড়শী-৩’ অ্যালবামটি। ওই সময়ে ‘বর্ণমালা’ নামে একটি ব্যান্ডদল গঠন করেন পড়শী। সেই সময়ে পড়শী-৩ অ্যালবামের ‘জনম জনম’, ‘হৃদয় আমার’, ‘লাভ স্টেশন’ শিরোনামের গানগুলো শ্রোতামহলে প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়। যার ফলে বর্তমান সংগীতাঙ্গনে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। সংগীতে সফলতার পর অভিনয়জগতেও নাম লিখিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী। তার প্রথম নাটক ‘মারিয়া ওয়ান পিস’। তার বিপরীতে অভিনয় করেন কলকাতার খুশি কৌশিক। এরপর আরো বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। সফলতাও পেয়েছেন।
বর্তমানে সংগীত এবং অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পড়শী। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের লাইভ প্রোগ্রাম, দেশ ও দেশের বাইরে স্টেজ শো এবং নতুন গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন পড়শী।
সম্প্রতি ‘মনেরই রঙে রাঙিয়ে’ শিরোনামে একটি নাটকের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন আরফিন রুমি। গানটি লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। নাটকটিতে পড়শী অভিনয়ও করেছেন। আরফিন রুমির সঙ্গে ‘পরীর চেয়েও সুন্দরী’ শিরোনামে আরো একটি দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। ইমরান মাহমুদুলের সঙ্গে পড়শীর নতুন দ্বৈত গান তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। এ গানের শিরোনাম ‘কথা একটাই’। গানটির কথা লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। সুর ও সংগীত করেছেন ইমরান মাহমুদুল।

পড়শী প্রায় দেড় যুগের সংগীত ক্যারিয়ারে বেশকিছু জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘জনম জনম’ গানটি। এই গানটিতে এখন পর্যন্ত ৭৩ মিলিয়নের বেশি ভিউ হয়েছে। পড়শীর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে গাওয়া আরো একটি জনপ্রিয় গান হচ্ছে ‘খুঁজে খুঁজে’ গানটি। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে এই গানটি প্রকাশিত হয়। এই গানটি গাওয়ার পরপরই শ্রোতাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিল পড়শী। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন কনসার্টে এই গানটি গেয়ে থাকেন তিনি। সম্প্রতি পড়শীর গাওয়া ‘ওরে মন’ গানটিও শ্রোতামহলে দারুণ সাড়া ফেলেছে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের গাওয়া আরো একটি গান ‘ভালোবাসি’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়া ‘দ্বিতীয় জীবন’, ‘যতনে রেখেছি তোমায়’, ‘হৃদয়ের গহিনে’, ‘এই দু’টি চোখ’, ‘আমার হয়ে থাক না’, ‘চুপি চুপি’, ‘হৃদয় আমার’, ‘একটু একটু’, ‘লাভ স্টেশন’, ‘তোমারই পরশ’, ‘একলা প্রহর’, ‘লক্ষ্মীসোনা’, ‘একা একা লাগে’, ‘আনারকলি’সহ আরো বেশকিছু গান জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে।
পড়শীর সংগীতে যাত্রা শুরু ‘ক্ষুদে গানরাজ’ দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার পর থেকে। তখনকার অনুভূতির কথা জানতে চাইলে বলেন, ‘অনুভূতি ভালো ছিল। প্রথম দিকে একটু নার্ভাস ছিলাম। ভয়ও লাগছিল, আসলে আমি গানকে তখন এতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেব ভাবিনি। ক্ষুদে গানরাজ প্রতিযোগিতা শেষে আস্তে আস্তে গানে গুরুত্ব দিই।’
ক্ষুদে গানরাজে কীভাবে এলেন ? ‘ওটা আসলে কোনো প্ল্যানিং করে নয়। একদিন আমার ওস্তাদজি আমাকে এসে বললেন, তোমাকে একটা গানের ট্যালেন্ট হান্টে যেতে হবে। ব্যস, আমিও গেলাম। এতটুকুই। সেরকমভাবে আগে থেকে প্রিপারেশন নিয়ে যাওয়া এরকম কিছু ছিল না।’
পড়শী ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌলভী পাড়ায়। তার বাবা প্রকৌশলী এহসান-উর-রশিদ এবং মা জুলিয়া হাসান একজন গৃহিণী। তার একমাত্র ভাইয়ের নাম সিয়াত এহসান স্বাক্ষর।