ছোটোপর্দার বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা নিলয় আলমগীর। গত কয়েক বছর ধরেই নিলয় অভিনীত ভিন্ন ধারার নাটকগুলো ইউটিউব ভিউ ও ট্রেন্ডিংয়ে এগিয়ে। একদশকেরও বেশি সময় ধরে নিলয় আলমগীর কাজ করছেন শোবিজ অঙ্গনে। ইতোমধ্যে ভিন্ন ঘরানার গল্পের নাটকে নিলয়ের অভিনয় কোটি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। নিলয়কে নিয়ে লিখেছেন শহিদুল ইসলাম এমেল...
নিলয় আলমগীর ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে ‘সুপারহিরো সুপারহিরোইন’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর থেকেই টিভিপর্দায় অভিষেক হয় তার। বর্তমানে ছোটোপর্দায়ই দাপটের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন এই অভিনয়শিল্পী। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করছেন নিলয়। চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত সালাহউদ্দিন লাভলু পরিচালিত ‘সোনার পাখি রুপার পাখি’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পান নিলয়। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। করে যাচ্ছেন একের পর এক বহু জনপ্রিয় নাটক। সাবলীল অভিনয় দক্ষতা দিয়ে ইতোমধ্যে কোটি কোটি দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। প্রতিমাসেই তার একাধিক নাটক মুক্তি পাচ্ছে। দর্শকও লুফে নিচ্ছেন তার নাটকগুলো।
তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করেন। আগামী ঈদুল ফিতরের একটি নাটকে তাকে হাতির সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যাবে। যারা তার নাটক নিয়মিত দেখেন, তারা জানেন পশুদের প্রতি রয়েছে তার পরম ভালোবাসা। কিছুদিন আগে সেন্টমার্টিনের কুকুরগুলো [পর্যটক না যাওয়ার কারণে] কী খাবে তার একটি প্রচারণা চালিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে কুকুরগুলোর খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। নিলয় মাঝে মাঝে নিজ উদ্যোগেও কুকুর বিড়ালের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন। তিনি পশুদের খুব ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসা থেকেই তাদের যতœ নেন এবং খাবারের ব্যবস্থা করেন। এর আগেও পশু নিয়ে নাটক করেছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বন্যপ্রাণী হাতি নিয়ে নাটকে অভিনয় করলেন। নাটকের নাম ‘নিহারকলি’। এটি রচনা করেছেন সেজান নূর। নির্মাণ করেছেন ফজলুল হক। উল্লেখ্য, এর আগেও ফজলুল হকের নির্দেশনায় একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন নিলয় আলমগীর।

নাটকটিতে নিলয়ের জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। রাজধানীর পুবাইলের একটি শুটিংবাড়িতে ও তার আশপাশের এলাকায় নাটকটির দৃশ্য ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে নিলয় আলমগীর বলেন, ‘হাতি নিয়ে কাজ করা আমার দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন ছিল। ঠিক তেমনি ছিল পরিচালকেরও। আসলে হাতি নিয়ে অভিনয় করা খুবই কঠিন একটি কাজ। কারণ, হাতিকে ঠিকমতো মেইনটেইন করে, আমাদের আবেগের সঙ্গে তার আবেগ রিলেট করে কাজ করা খুব কঠিন। মানুষের আবেগ আর পশুদের আবেগ এক নয়। কিছুদিন আগে একটি হাতি নির্যাতনের ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। পরে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় হাতিটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়। সে-রকমের একটি গল্প নিয়ে ‘নিহারকলি’ নাটকটি নির্মিত হয়েছে। নাটকটিতে আমি মাহুত চরিত্রে অভিনয় করেছি। নাটকে মূলত আমরা হাতির কষ্টটাকে দেখানোর চেষ্টা করেছি। এটা আমাদের স্বপ্নের প্রজেক্ট। তাই কষ্ট হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে আমরা কাজটি করেছি। আমার বিশ্বাস নাটকটি দর্শকের ভালো লাগবে।’
নাটকের গল্প প্রসঙ্গে নিলয় বলেন, ‘হাতির বয়স যখন কম তখন তাকে দিয়ে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে একটি পরিবার চলে এবং তারও খাবারের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু আস্তে আস্তে যখন সেই হাতিটির বয়স হয়ে যায়, তখন হাতিটিকে দিয়ে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ কমে যায়। যার কারণে পরিবারটি প্রবল অর্থ সংকটে পড়ে। যেহেতু বয়স্ক হাতিকে দিয়ে খুব বেশি অর্থ আয় করা সম্ভব হচ্ছে না তাই স্বাভাবিকভাবেই অর্থের অভাবে হাতিটিরও খাবারের জোগান কমে যায়। ফলে পরিবারটিও অর্থের অভাবে নানা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।’
এরকম গল্পনির্ভর নাটকটি আগামী ঈদুল ফিতরের বাংলাভিশনে প্রচার হবে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা ও বাবা-মায়ের দোয়ায় আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছেন বলে মনে করেন নিলয় আলমগীর। তার অবস্থান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি কৃতজ্ঞ তার সব নাটকের প্রযোজক, পরিচালক, সহশিল্পীদের প্রতি। তিনি দর্শকদের জন্যই অভিনয় করেন। আর দর্শকেরা যে নাটক দেখেন, সেটা ভিউ দিয়েই বোঝা যায়। তিনি সর্বোপরি দর্শকদের অভিমতকে খুবই গুরুত্ব দেন।