প্রতিবেশী দিদির হারমোনিয়ামের আওয়াজ শুনলেই উতলা হতো সায়ন্তনীর মন

22 Apr 2025, 02:53 PM সারেগারে শেয়ার:
প্রতিবেশী দিদির হারমোনিয়ামের আওয়াজ শুনলেই উতলা হতো সায়ন্তনীর মন

ফিজআপ চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ ২০১৭-এর ফাইনালিস্ট নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময়ী কণ্ঠশিল্পী শ্রাবণী সায়ন্তনী। অসাধারণ গায়কি আর কণ্ঠশৈলীর জাদুতে একের পর এক নতুন নতুন গান গেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই অসংখ্য ভক্তশ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। সম্প্রতি বেশকিছু গান প্রকাশিত হয়েছে তার। এছাড়া মৌলিক এবং সিনেমার গান নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তার নতুন গান নিয়ে ব্যস্ততা, পড়াশোনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আনন্দভুবনের এবারের সারেগারে আয়োজনে। লিখেছেন শহিদুল ইসলাম এমেল...


শ্রাবণী সায়ন্তণী সাম্প্রতিক সময়ে তার নতুন গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া স্টেজ শো, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের শো নিয়েও ব্যস্ততা যাচ্ছে তার। সেইসঙ্গে ওপার বাংলার জনপ্রিয় একটি বিদ্যাপীঠ বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে [শান্তিনিকেতন] পড়ালেখা করছেন হিন্দুস্থানী ক্লাসিক্যাল মিউজিক নিয়ে। সবমিলিয়ে বলা যায়, পড়াশোনা আর গান-বাজনার মধ্যেই আছেন তিনি।

শ্রাবণীর সংগীতের শুরু একদম ছেলেবেলা থেকেই। তখন তার বয়স ছিল আড়াই থেকে তিন বছর। বাবার কাছেই তার গানের হাতেখড়ি। বাবার কাছ থেকেই প্রথম সারগাম শেখেন। এছাড়াও বাবার পাশাপাশি তার জীবনের প্রথম গানের শিক্ষক ছিলেন দিপা ঘোষ। পাশাপাশি বিভিন্ন ওস্তাদের কাছেও শেখার সুযোগ হয়েছে তার। শ্রাবণীর বাড়ি রংপুরে। বেড়ে উঠেছেন রংপুরেই। রংপুরের একজন জনপ্রিয় ওস্তাদ জিয়াউল হক লিপু’র কাছে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে তালিম নিয়েছেন। এখন তিনি শিখছেন কলকাতার অর্ঘ্য চক্রবর্তীর কাছে। ছেলেবেলা থেকেই জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। বেশ কয়েকটি পদক এবং অসংখ্য পুরস্কারও পেয়েছেন নতুন প্রজন্মের এই সংগীতশিল্পী।

শ্রাবণী সায়ন্তনীর ‘ফিজআপ চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠে’ ফাইনালিস্ট হওয়ার পর থেকেই মূলত জার্নিটা শুরু। সেরাকণ্ঠের পর নতুন একটি জায়গায় তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন। এছাড়াও তিনি সব ধরনের গান গাইতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। যেমন : নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, ক্ল্যাসিক্যাল, সেমি ক্ল্যাসিক্যাল, রাগপ্রধান, ঠুমরি, গজল, আধুনিক, ব্যান্ড, লোকগান-সহ সব ধরনের গান তিনি গাইতে পারেন। এরপর একসময় মৌলিক গান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নিজের বেশকিছু মৌলিক গান ইতোমধ্যে বের হয়েছে এবং প্রতিনিয়তই হচ্ছে। শ্রাবণী সায়ন্তনীর এই ঈদে প্রকাশিত হয়েছে ‘বন্ধু তুমি কেমন কইরা’ ও ‘যেদিন তোমায় আমি’ শিরোনামের দু’টি গান। প্রথম গানটি লিখেছেন নজরুল ইসলাম রাজু। সুর ও সংগীত করেছেন এস কে সাগর শান। দ্বিতীয় গানেরও কথা লিখেছেন নজরুল ইসলাম রাজু। সুর ও সংগীত করেছেন এস কে সাগর শান।

এছাড়া পয়লা বৈশাখে প্রকাশিত হয়েছে ‘না বলা কত কথা’ শিরোনামের একটি গান। গানটির কথা ও সুর করেছেন তরুণ সিং। মিউজিক কম্পোজিশন করেছেন ঋষিকেশ রকি। গানটি প্রকাশিত হয়েছে জি সিরিজের ব্যানারে। বছরের শুরুতে ‘বেইমান’ শিরোনামের নতুন গান রিলিজ হয়েছে তার। গানটির কথা লিখেছেন ফিরোজ খান। সুর ও সংগীত করেছেন অনিম খান। গানটি প্রযোজনা করেছেন হাসনাত মিলন। পাশাপাশি ‘পটের বিবি-২’ নাটকের জন্য একটি খুব সুন্দর সময়োপযোগী গান করেছেন শ্রাবণী। নাটকটি প্রযোজনা করেছেন এ বাবুল। সেইসঙ্গে নতুন একটি সিনেমার গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন।

শ্রাবণী জানান, বেশকিছু মৌলিক গান এবং বেশকিছু সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সেগুলো রিলিজের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টির মতো মৌলিক গান গেয়েছেন শ্রাবণী। গান নিয়ে এত ব্যস্ত থাকার পরও কয়েক মাস আগে প্রথমবারের মতো একটি নাটকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। নাটকের নাম ‘সামিস্ গার্লফ্রেন্ড’। নাটকটি প্রযোজনা করেছেন মোহাম্মদ আলী রিফাত ও রিফাত আদনান পাপন। এতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরশ খান, তাসনুভা তিশা, মুনিরা মিঠুসহ আরো অনেকে।

সংগীতের প্রতি কীভাবে আগ্রহী হলেন জানতে চাইলে শ্রাবণী বলেন, ‘ছেলেবেলায় আমার পাশের বাড়ির বড়ো দিদি গান করতেন। আমি ছেলেবেলা থেকেই হারমোনিয়ামের আওয়াজ খুব পছন্দ করতাম। দিদি যখন সকালে রেওয়াজ করতেন তখন আমি ঘুম থেকে উঠেই সেখানে চলে যেতাম। হারামোনিয়ামের আওয়াজ শুনলে আমি ঠিক থাকতে পারতাম না। চলে যেতাম সেখানে। সেটা দেখে বাবা বুঝতে পারেন গানের প্রতি আমার খুব আগ্রহ। তখন বাবা আমাকে প্রথমে একটা খেলনা হারমোনিয়াম কিনে দেন। কিছুদিন পর বাবা দেখলেন, আমার খুব ঝোঁক এটার প্রতি। আমার তখন বয়স তিন বছর। বাবাও মোটামুটি গান জানতেন। বাবা তখন আমাকে একটা আসল হারমোনিয়াম কিনে দেন এবং তিনিই আমাকে সা রে গা মা পা শেখাতে শুরু করেন। সেখান থেকেই আস্তে আস্তে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং ওখান থেকেই গানের প্রতি আমার ভালোবাসা।’

শ্রাবণী সায়ন্তনীর প্রিয় শিল্পীর তালিকা অনেক বড়ো। তার মধ্যে দেশে সাবিনা ইয়াসমীন, রুনা লায়লা, আবিদা সুলতানা, শাহনাজ রহমতুল্লাহ, সামিনা চৌধুরী, কনকচাঁপা, এন্ড্রু কিশোর, সুবির নন্দী, খুরশিদ আলম, কুমার বিশ্বজিৎ। দেশের বাইরে লতা মুঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, সাধনা সারগামসহ আরো অনেকেই।

সংগীত নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ‘সংগীত নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে যেহেতু এখন আমি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে [শান্তিনিকেতন] পড়ছি সংগীত নিয়ে সেহেতু ভবিষ্যতে সংগীতের সঙ্গেই থাকতে চাই। সত্যি বলতে অনেক কিছু শেখার আছে সংগীতের। এখনো অবধি কিছুই শিখে উঠতে পারিনি। অনেক কিছু শেখার বাকি। একজীবনে হয়ত সংগীতসমুদ্র থেকে এত কিছু শেখা সম্ভব নয়। তবুও যতটা সম্ভব আমার আয়ত্তের মধ্যে তার সবটাই শিখতে চাই। অনেক ভালো ভালো গান গাইতে চাই এবং অনেক দূর যেতে চাই। সবাই আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন।’