ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন, ওয়েলনেস কনসালটেন্ট, ফাউন্ডার, রিজুভা ওয়েলনেস। ডা. বিএ সাদিক, ওয়েলনেস কনসালটেন্ট, চেয়ারম্যান, রিজুভা ওয়েলনেস। ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিসদিবস। দিবসটি উপলক্ষে আনন্দভুবন প্রকাশ করেছে বিশেষ এই সংখ্যা। এতে ডায়াবিটিসের বিভিন্ন দিক এবং এর থেকে নিরাপদ থাকার উপায়সমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ওয়েলনেস দম্পতি’ ডা. বিএ সাদিক ও ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন। -বি. স.
সচেতনতার আলোয় সুস্থ জীবনের প্রতিশ্রুতি
ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন
ডা. এবি সাদিক
‘সুস্থতা কোনো গন্তব্য নয়, এটি প্রতিদিনের এক যাত্রা- নিজের যত্নে, নিজের ভালোবাসায়।’
প্রতিবছর ১৪ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আধুনিক জীবনের গতি ও ব্যস্ততার মাঝেও নিজের শরীর ও মনের প্রতি যত্ন নেওয়াই প্রকৃত প্রজ্ঞা। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, মানসিক প্রশান্তি ও সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়াবেটিস কেবল একটি স্বাস্থ্য-সমস্যা নয় ; এটি এক সতর্ক বার্তা- আমাদের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপের প্রতিফলন।
এই দিনে Rejuva Wellness সকলকে আহ্বান জানায় ছোটো ছোটো পরিবর্তনের মাধ্যমে বড়ো সুস্থতার পথে হাঁটার :
* নিয়মিত শরীরচর্চা
* পরিমিত ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস
* পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম
* মানসিক প্রশান্তি ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
Rejuva Wellness বিশ্বাস করে, health is not just the absence of disease, but the harmony of body, mind, and spirit.
এই বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে, আসুন আমরা অঙ্গীকার করি, নিজেকে ভালোবাসব, সচেতন থাকব এবং প্রতিদিন বেছে নেব এক সুস্থ, প্রাণবন্ত ও আনন্দময় জীবন। নিয়ন্ত্রণ শুরু হয় সচেতনতা, সঠিক জীবনধারা ও মানসিক ভারসাম্যের মাধ্যমে।
১৪ নভেম্বর, বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে আমাদের উদ্যোগগুলো সাজানো হয়েছে “Awareness through Wellness” এই মূল ভাবনাকে কেন্দ্র করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা [WHO]-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। মাত্র একদশক আগেও এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪২২ মিলিয়ন, যা থেকে বোঝা যায়, ডায়াবেটিসের প্রকোপ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী কয়েক দশকে এই সংখ্যা আরো দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে না, এটি হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ও স্নায়ু ক্ষতির মতো জটিলতার অন্যতম কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা [WHO] ও আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন [IDF]-এর সাম্প্রতিক তথ্যমতে- বিশ্বের প্রায় ৪৪% প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগী এখনো জানেন না যে, তারা এই রোগে আক্রান্ত [অর্থাৎ undiagnosed]।
WHO-এর ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে প্রায় ৫৯% মানুষ কোনো চিকিৎসা নিচ্ছেন না [untreated]।
IDF-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জন ডায়াবেটিস রোগীর প্রায় ৪-৫ জনই অজ্ঞাত বা অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছেন।

বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের হার
বাংলাদেশেও ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে সচেতনতার ঘাটতি স্পষ্ট।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে- প্রায় ৪০-৫০% ডায়াবেটিস রোগী তাদের রোগ সম্পর্কে অবগত নন। অনেকেই চিকিৎসা শুরু করলেও নিয়মিত ওষুধ সেবন বা ফলোআপ বজায় রাখেন না। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন [IDF]-এর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১৩.৯ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক [২০-৭৯ বছর বয়স] মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রায় ১০% ডায়াবেটিস ও এর জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বার্তা
ডায়াবেটিস প্রায়শই নীরব শত্রুর মতো কাজ করে- তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জীবনধারায় পরিবর্তন, এবং সচেতনতা সবচেয়ে বড়ো প্রতিরোধ।
‘ওয়েলনেস কাপল’ হিসেবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ : আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি
আমাদের কাছে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ মানে শুধু ওষুধ বা ডায়েট নয়- এটি একটি জীবনধারা, যেখানে শারীরিক, মানসিক ও মানসিক ভারসাম্যের যত্ন নেওয়াই মূল চাবিকাঠি। কাপল হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, সুস্থতার যাত্রা যখন একসাথে শুরু হয়, তখন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সহজ ও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।
খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা
আমরা দু’জনেই মনে করি, খাবারই আমাদের শরীরের প্রথম ওষুধ। আঁশযুক্ত শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও পরিমিত প্রোটিনযুক্ত খাবার শরীরের গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় রাখে। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি থেকে দূরে থাকা, আর ঘরোয়া রান্না উপভোগ করা- আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস। প্রোটিন লেভারেজ হাইপোথিসিস ও ইনসুলিন সেনসিটিভিটি [বাংলায় ব্যাখ্যা] :
“প্রোটিন লেভারেজ হাইপোথিসিস” বা Protein Leverage Hypothesis [PLH] হলো এক ধরনের বৈজ্ঞানিক ধারণা, যা বলে, আমাদের শরীর মূলত প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে চায়। যখন খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে না, তখন শরীর বেশি পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটযুক্ত খাবার খেতে উৎসাহ দেয়, যাতে মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যায়। ফলে ওজন বৃদ্ধি ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দেখা দেয়।
অন্যদিকে, যদি খাদ্যতালিকায় যথেষ্ট প্রোটিন থাকে, তবে শরীর দ্রুত তৃপ্তি অনুভব করে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমে যায়। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি [insulin sensitivity] বা ইনসুলিনের প্রতি কোষের প্রতিক্রিয়াশক্তি উন্নত হয়।
সহজভাবে বললে-
* পর্যাপ্ত প্রোটিন = ভালো ইনসুলিন সেনসিটিভিটি
* প্রোটিনের অভাব = অতিরিক্ত খাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
তাই ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে এবং রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
হাইড্রেশন ও ডিটক্সিফিকেশন
পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের টক্সিন দূর করে ও কিডনির কার্যক্ষমতা বজায় রাখে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
একসাথে চলা, প্রতিদিন সকালে একসাথে হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা আমাদের দিনের শুরু। এতে শুধু ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে না, একে অপরের সঙ্গে মানসিক সংযোগও দৃঢ় হয়। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি এটি মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়।
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ও মানসিক প্রশান্তি
আমরা দু’জনেই দেখেছি, মানসিক চাপ সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা প্রভাবিত করে। তাই প্রতিদিন কিছু সময় ধ্যান, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস বা কৃতজ্ঞতার চর্চায় কাটাই। এক শান্ত মন শরীরকে সুস্থ রাখে।
নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা
আমরা বিশ্বাস করি সচেতনতা আতঙ্ক নয়, বরং প্রতিরোধের হাতিয়ার। নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপন আমাদের রুটিনের অংশ। পাশাপাশি চোখ, কিডনি ও পায়ের যতœ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়াবেটিস ও ওয়েলনেস : সুস্থ জীবনের ভারসাম্য
ডায়াবেটিস এখন শুধু একটি রোগ নয়, এটি একটি জীবনধারাজনিত চ্যালেঞ্জ। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। তবে সুখবর হলো- সঠিক জীবনধারা ও ওয়েলনেস অনুশীলনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ভালোবাসা, যত্ন ও আত্মশৃঙ্খলা একসাথে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ শুধু সম্ভব নয়, এটি এক পরিপূর্ণ জীবনের পথও খুলে দেয়।
ডায়াবেটিস ও ত্বক-চুল : ওয়েলনেসের ভারসাম্যে সৌন্দর্যের গল্প
ডায়াবেটিসকে আমরা সাধারণত শরীরের অভ্যন্তরীণ এক ব্যাধি হিসেবে জানি, কিন্তু এর প্রভাব ত্বক ও চুলেও নীরবে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ ওয়েলনেস মানে শুধু সুস্থ শরীর নয়- এটি মনের প্রশান্তি, ত্বকের দীপ্তি এবং চুলের প্রাণবন্ততায় এক সম্পূর্ণ ভারসাম্য।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়। এতে ত্বক ও চুল পর্যাপ্ত পুষ্টি, অক্সিজেন ও আর্দ্রতা পায় না। ত্বক হয়ে ওঠে শুষ্ক, রুক্ষ ও নিস্তেজ ; ছোটো ক্ষত সহজে শুকায় না এবং সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ঘাড়, কাঁধ বা আঙুলের গাঁটে কালচে দাগ- “acanthosis nigricans”- ডায়াবেটিসের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা দেয়।
ডায়াবেটিসে ঘাম গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে ত্বক তার প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারায়। দীর্ঘমেয়াদে ত্বক তার স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে সময়ের আগে বয়সের ছাপ ফেলে দেয়। আমাদের ‘outer glow তখন ম্লান হয়ে যায়, কারণ ভেতরের ভারসাম্য বিঘিœত হয়।
চুলের ক্ষেত্রেও প্রভাব গভীর। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও রক্ত সঞ্চালনের অভাবে চুলের গোড়ায় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। ফলিকল দুর্বল হয়ে চুল পাতলা হয়ে যায়, ঝরে পড়ে এবং অনেক সময় হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় “androgenic alopecia” দেখা দেয়।
ডায়াবেটিসের সঙ্গে থাকা মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও হরমোনের ওঠানামা কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে চুল পড়াকে আরো বাড়িয়ে তোলে। ফলে চুলের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায় এবং আত্মবিশ্বাসও ক্ষীণ হয়ে পড়ে।
তবে সুখবর হলো- সঠিক যত্ন ও জীবনধারার পরিবর্তন এই প্রভাবগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান, মানসিক প্রশান্তি ও পর্যাপ্ত ঘুম- এসবই ডায়াবেটিস ও ত্বক-চুলের যত্নের ভিত্তি।
ত্বকের যত্নে মাইল্ড ক্লিনজার, হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার এবং প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার অপরিহার্য। চুলের জন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য, প্রাকৃতিক তেল ও স্ক্যাল্প ম্যাসাজ চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়।
সবচেয়ে জরুরি হলো, ত্বক বা চুলে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে সেটিকে শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। কারণ, সত্যিকারের ওয়েলনেস মানে হলো ভেতরের ভারসাম্য থেকে বাইরের দীপ্তি- যেখানে স্বাস্থ্য, মন ও সৌন্দর্য একে অপরের সঙ্গে সুরে মেলে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ত্বক ও চুলের অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট : যত্নে সৌন্দর্যের পুনর্জাগরণ
ডায়াবেটিস কেবল একটি মেটাবলিক ডিজঅর্ডার নয়- এটি শরীরের প্রতিটি অঙ্গ, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ত্বককে শুষ্ক, রুক্ষ ও সংবেদনশীল করে তোলে, আর চুলের গোড়ায় রক্তসঞ্চালন কমিয়ে দেয়, ফলে চুল ঝরে যায় ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তবে, আজকের আধুনিক অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট পদ্ধতিগুলো এই পরিবর্তনগুলোকে নিয়ন্ত্রণে এনে আবারও ফিরিয়ে দিতে পারে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উজ্জ্বলতা।
ত্বকের যত্নে আধুনিক সমাধান
* ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ত্বক সাধারণত সংবেদনশীল হয়, তাই এর যত্নে প্রয়োজন কোমল ও বৈজ্ঞানিকভাবে নিরাপদ পদ্ধতি।
* HydraFacial / MediFacial : এটি ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে, মৃত কোষ দূর করে এবং গ্লুকোজের কারণে সৃষ্ট নিস্তেজভাব কমায়।
* xygen Infusion TheraPz : শুষ্ক, প্রাণহীন ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ করে ত্বকের কোষগুলোকে রিফ্রেশ করে তোলে।
* Chemical Peels [mild] : চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হালকা পিল ব্যবহার করে কালচে দাগ বা হাইপারপিগমেন্টেশন হ্রাস করা যায়।
এই সব ট্রিটমেন্ট ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে কিন্তু গ্লুকোজ-সংবেদনশীল ত্বকে কোনো ক্ষতি করে না, যদি তা অভিজ্ঞ অ্যাস্থেটিক ডার্মাটোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে করা হয়।
চুলের যত্নে বৈজ্ঞানিকপদ্ধতি
ডায়াবেটিসে হেয়ার ফল বা চুল পড়া একটি সাধারণ সমস্যা। কারণ, রক্ত চলাচল কমে যাওয়ায় চুলের ফলিকল দুর্বল হয়ে যায়। এই অবস্থায় কিছু কার্যকর অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট হতে পারে-
* PRP [Platelet-Rich Plasma] TheraPz : রোগীর নিজের রক্ত থেকে নেওয়া প্লাজমা স্ক্যাল্পে ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল বাড়ায় ও নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।
* MesotheraPz: ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যামিনো অ্যাসিড মিশ্রণ স্ক্যাল্পে প্রয়োগ করে চুলের ফলিকল পুষ্ট করে।
এই ট্রিটমেন্টগুলো নিরাপদ, নন-ইনভেসিভ এবং ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপযোগী- তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে করা উচিত।
ওয়েলনেস টিপস : ভেতর থেকে সৌন্দর্য
অ্যাস্থেটিক কেয়ার তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা ভেতরের সুস্থতা ও মানসিক ভারসাম্যের সঙ্গে মিলিত হয়।
* প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন
* ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখুন
* অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার যেমন- বেরি, সবুজ শাকসবজি, বাদাম খান
* নিয়মিত চেকআপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ডায়াবেটিস থাকা মানেই যে, ত্বক ও চুলের যত্নে সীমাবদ্ধতা থাকবে- তা নয়। সঠিক ট্রিটমেন্ট ও নিয়মিত যতেœর মাধ্যমে আপনি ফিরে পেতে পারেন আপনার natural glow আত্মবিশ্বাস ও সৌন্দর্যের ভারসাম্য।
কারণ সৌন্দর্য তখনই পূর্ণ, যখন শরীর, মন ও আত্মা একসুরে সংগীত তোলে- thatÕs true wellness.
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নিজেকে ভালোবাসুন, আর ভেতরের সুস্থতাকে বিকশিত হতে দিন- যেখান থেকে জন্ম নেয় আপনার প্রকৃত Inner Glow.