জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস ও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আবৃত্তি সংগঠন 'কাব্য কুহুক' আয়োজন করেছিল এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা— ‘Tribute to Nazrul—দুয়ার ভাঙা গান’। ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাস’ স্লোগানকে ধারণ করে ২১ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি মিলনায়তনে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।
নজরুল মানেই দ্রোহের দীপ্তি, প্রেমের আবেশ আর শৃঙ্খল ভাঙার অদম্য আহ্বান। চিরজাগরূক এই কবিকে নতুন আঙ্গিকে ও শিল্পের ভিন্নতর বিন্যাসে স্মরণ করতেই ছিল এই অনন্য প্রয়াস।
অনুষ্ঠানে কবিতা ও আবৃত্তিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন নান্দনিক আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়।
পরিবেশনার প্রতিটি পরতে ফুটে ওঠে কবির বিদ্রোহ, মানবতা, প্রেম ও সাম্যের চেতনা।
শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের আবৃত্তিশিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় রূপ দেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। শিশুদের পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে নজরুলের কবিতা ও চেতনার উচ্চারণ আগামী দিনের সাংস্কৃতিক পথকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

অনুষ্ঠানের পরিচালক ফারহানা তৃনা তাঁর বক্তব্যে বলেন,
"শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ; তাদের অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের সুন্দর সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত নির্মিত হবে।"
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল বিশেষজ্ঞ ও বাঁশরীর কর্ণধার ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান। অনুষ্ঠানে নজরুল চর্চা কেন্দ্র ‘বাঁশরী’র শিল্পীদের পরিবেশিত দলীয় সংগীত আয়োজনটিকে করে তোলে আরও আবেগঘন ও সমৃদ্ধ।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে পরিবেশনায় অংশ নেন- টিটু মুন্সি, মেহেদী হাসান, মাহমুদা আক্তার, মাহমুদুল হাসান, আলী আহমেদ সহ আরো অনেক আবৃত্তিশিল্পী।
সব মিলিয়ে ‘Tribute to Nazrul—দুয়ার ভাঙা গান’ কেবল একটি আবৃত্তি সন্ধ্যা ছিল না; এটি ছিল নজরুলের সৃষ্টিসত্তা ও মানবিক দর্শনের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য, যেখানে নতুন প্রজন্মের প্রাণস্পন্দনে কবিকে স্মরণ করা হয়েছে এক নতুন ভাষায়।