ফকির আলমগীর- অকুতোভয় এক কণ্ঠযোদ্ধা

30 May 2024, 01:31 PM সারেগারে শেয়ার:
ফকির আলমগীর-  অকুতোভয় এক কণ্ঠযোদ্ধা

গণসংগীতশিল্পী, লেখক, সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীরের জীবন ও কর্ম নিয়ে আনন্দভুবন ২৩ বর্ষ ২০ সংখ্যায় [১-১৫ মার্চ ২০১৯] প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রচ্ছদের শিরোনাম ছিল : ‘আমার পরিবেশ আমাকে শিল্পী করেছে’। তার সম্পর্কে লেখা হয়েছে : ফকির আলমগীর একজন শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক, সংগঠক সর্বোপরি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একুশে পদকপ্রাপ্ত মহান এই শিল্পীর জন্ম একুশে ফেব্রুয়ারি। দেশ, দেশের মানুষের জন্য এবং দেশের সংস্কৃতি লালন-পালনে তাঁর রয়েছে অসামান্য অবদান। গুণী এই শিল্পী সবসময় মানুষের জন্য গান করেছেন, গান করেছেন দেশের জন্য। শুধু তাই নয়, গণসংগীত ও দেশীয় পপসংগীতে তার রয়েছে অসামান্য অবদান। যেখানে তিনি অন্যায় দেখেছেন, সেখানে তিনি গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন। শুধু কি গানে প্রতিবাদ করেছেন, প্রতিবাদ করেছেন লেখনীর মাধ্যমেও। নানা স্মৃতি ধরে রেখেছেন তার প্রকাশিত একাধিক গ্রন্থে...

সাক্ষাৎকার : ইকবাল খোরশেদ

অনুলিখন : শেখ সেলিম

পরবর্তীসময়ে

ফকির আলমগীর ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় দিনটিতে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. হাচেন উদ্দিন ফকির, মাতা বেগম হাবিবুন্নেসা। ফকির আলমগীরের শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো কাটে হাজারো স্মৃতিঘেরা ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার অন্তর্গত কালামৃধা গ্রামের ছায়াসুনিবিড় সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে। কালামৃধা গোবিন্দ হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি চলে আসেন ঢাকায়। ফকির আলমগীর পদ্মাপাড়ের মানুষ। পদ্মার উজান স্রোতে শত প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করেছেন এ লড়াকু গায়ক। শত লড়াই সংগ্রাম করে তিনি আজ যে খ্যাতি অর্জন করেছেন, সেই পথটুকু একেবারেই মসৃণ ছিল না।

বেঁচে থাকার লড়াইয়ে তাকে আজীবন সংগ্রাম করতে হয়েছে, কষ্ট করতে হয়েছে প্রতিনিয়ত। দেশমাতৃকার জন্য মাত্র ২১ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন এই শিল্পী। দেশাত্মবোধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে গানে গানে উজ্জীবিত করেছেন অসংখ্য মানুষকে। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের শিল্পী আসাদের মিছিলের সহযাত্রী ছিলেন ফকির আলমগীর। উপমহাদেশের অন্যতম প্রবাদপ্রতিম সংগ্রামী শিল্পী ফকির আলমগীর বাংলা গণসংগীতের আধুনিকায়নের ধারাকে বজায় রাখার লক্ষ্যে পথ চলেছেন সবসময়। এ-পথ চলার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার এক আশ্চর্য সম্মিলন ঘটিয়েছিলেন তিনি। আধ্যাত্মবাদের আবেগের সঙ্গে যুক্তিযুক্ত জীবনবাদী চেতনার এক অভূত অপরূপ সংমিশ্রণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। এখানেই ফকির আলমগীর ছিলেন ব্যতিক্রম।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ফকির আলমগীরের গাওয়া ‘ও সখিনা’, ‘সান্তাহার জংশনে দেখা’, ‘বনমালী তুমি’, ‘কালো কালো মানুষের দেশে’, ‘মায়ের একধার দুধের দাম’, ‘আহা রে কাল্লু মাতব্বর’, ‘ও জুলেখা’সহ বেশ কিছু গান তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। চির সবুজ এ-কণ্ঠশিল্পী সংগীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘একুশে পদক’, ‘শেরেবাংলা পদক’, ‘ভাসানী পদক’, ‘সিকুয়েল অ্যাওয়ার্ড অব অনার’, ‘তর্কবাগিশ স্বর্ণপদক’, ‘জসীমউদদীন স্বর্ণপদক’, ‘কান্তকবি পদক’, ‘ভারতের গণনাট্য পুরস্কার’, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক মহাসম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন।

স্ত্রী সুরাইয়া আলমগীর ও তিন পুত্র সন্তান রয়েছে তার। তাদের নাম রানা, রাজীব, রাহুল। তিনি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র হজব্রত পালন করেন। ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র ওমরাও পালন করেন। ফকির আলমগীর ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুলাই কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে পরলোক গমন করেন। হ

লেখা : শহিদুল ইসলাম এমেল