মিস পেটিট গ্লোবাল বাংলাদেশ ২০২৬

09 Apr 2026, 03:46 PM অন্যান্য শেয়ার:
মিস পেটিট গ্লোবাল বাংলাদেশ ২০২৬

সম্প্রতি ঢাকায় সম্পন্ন হলো মিস পেটিট গ্লোবাল বাংলাদেশ ২০২৬-এর করণেশন । গ্ল্যামার, আত্মবিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হলো মিস পেটিট গ্লোবাল বাংলাদেশ ২০২৬-এর করণেশন অনুষ্ঠান। দেশের প্রেজেন্ট অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, ফ্যাশন ডিজাইনার এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

এবারের প্রতিনিধি হিসেবে কবিতা আক্তার বিথীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিস পেটিট গ্লোবাল বাংলাদেশ ২০২৬ হিসেবে অ্যাপয়েন্ট করা হয়। এটি কোনো প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন ছিল না; বরং তার পূর্বের জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস এবং মঞ্চ উপস্থিতির ভিত্তিতেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রেজেন্ট অঙ্গনে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে একটি সম্ভাবনাময় প্রতিযোগী হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও আন্তর্জাতিক আসরের আগে প্রস্তুতির সময় খুবই সীমিত, মাত্র এক মাস, তবুও আয়োজকরা আশাবাদী যে এই সময়ের মধ্যেই তিনি নিজেকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করে ভালো ফলাফল এনে দিতে পারবেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল স্যাশিং ও ক্রাউনিং পর্ব। বিথীকে স্যাশ পরিয়ে দেন ড. তৌহিদা রহমান ইরিন, রিজুভা ওয়েলনেস-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং মিস বাংলাদেশ ইন ট্রেনিং-এর পরিচালক। ফুলেল শুভেচ্ছা জানান দ্য মিস গ্লোবাল বাংলাদেশ ২০২৫ জেসমিমা জেমিম। আর তাকে মুকুট পরিয়ে দেন মিস অরা বাংলাদেশ ২০২৩ ইসরাত শারমিন খান যা পুরো আয়োজনকে এনে দেয় এক অনন্য মর্যাদা।

অনুষ্ঠানে দেশের পেজেন্ট ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনাররা। উপস্থিত ছিলেন ডিজাইনার সোনি রহমান, যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ন্যাশনাল কস্টিউম তৈরিতে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।

এই আয়োজনের নেতৃত্বে ছিলেন ন্যাশনাল ডিরেক্টর ফাহমিদা সুলতানা দিমা। পেজেন্ট জগতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই সংগঠক জার্মানিতে কুইন্স ক্যাম্প–-এর সঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছেন। তার দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীরা ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।

মিস পেটিট গ্লোবাল একটি আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা, যা অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার প্রতিযোগীদের জন্য একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। যেখানে অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৮ সেন্টিমিটার। বাংলাদেশের নারীদের গড় উচ্চতা প্রায় ১৫০ থেকে ১৫২ সেন্টিমিটার হওয়ায় এই প্ল্যাটফর্মটি তাদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় উচ্চতার সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের অনেক যোগ্য প্রতিযোগী অংশগ্রহণের সুযোগ পায় না, এমনকি অংশ নিলেও কখনো কখনো বৈষম্যের শিকার হন; সে দিক থেকে মিস পেটিট গ্লোবাল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে। এটি প্রতিযোগিতার পঞ্চম আয়োজন, যা ‘গোল্ডেন এডিশন’ হিসেবে পরিচিত এবং এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আসর হতে যাচ্ছে। আয়োজকদের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিযোগীরা এতে অংশগ্রহণ করবেন। ৫ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন, যার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হবে ১০ মে।

সব মিলিয়ে, এই করণেশন অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এখন সবার নজর কবিতা আক্তার বিথীর দিকে। অল্প সময় নিয়েও তিনি কতটা সফলভাবে বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।