কেউ রের্কড গড়েন, আবার অন্য কেউ সেই রেকর্ড ভেঙেও ফেলেন। দেশের নাটকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দর্শক ভিউজ অভিনেতা ছিলেন অপূর্ব। সেই রেকর্ড সম্প্রতি ভাঙলেন অভিনেতা নিলয় আলমগীর। তার অভিনীত নাটক ‘শ^শুর বাড়িতে ঈদ’ ইতোমধ্যে ৫ কোটি ৫৮ লক্ষ ভিউজ ছাড়িয়ে গেছে। এটা পর্দার নাটকের নতুন মাইলফলক। দর্শকের ভালোবাসায় নিলয় দর্শকদের জানিয়েছেন ধন্যবাদ। নাটকের নতুন ইতিহাস, বর্তমান ক্যারিয়ার ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা হয় এই অভিনেতার সঙ্গে। বিস্তারিত লিখেছেন শেখ সেলিম...
অভিনেতা নিলয় আলমগীর। একের পর এক ভিন্ন ঘরানার গল্পের নাটকে তার অনবদ্য অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করছে। নতুন নতুন নাটক নিয়ে যেন দম ফেলার সময় নেই তার। শত ব্যস্ততার মধ্যেও কথা হয় তার সঙ্গে।
১১ মে, রবিবার আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী সেদিন ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠপ্রায়, প্রখর রোদ উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পৌঁছে যাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে। বাড়িতে প্রবেশ করতেই পচা মাছের গন্ধ নয়, ভেসে আসছিল পচা মাছের কথোপকথন। সে এক এলাহি কা-। এর মধ্যে অভিনেতা নিলয় আলমগীরের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। মহিন খান নির্দেশিত ‘মাছের মানুষ’ নাটকের শুটিং চলছিল। দেখা হওয়া মাত্রই নিলয় হাসি দিয়ে কাছে এলেন, কুশল বিনিময় হলো। জানালেন একটি সিকোয়েন্স করেই সাক্ষাৎকার পর্বটি সারবেন। পর্দার নাটকে নিলয়ের অবস্থান এখন এক নম্বরে। সাবলীল অভিনয়গুণে দর্শকের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এই তো কিছুদিন আগে তিনি নাট্যাঙ্গনে নতুন রেকর্ড গড়লেন। যে-রেকর্ডটি দীর্ঘদিন ধরে অপূর্ব ধরে রেখেছিলেন। এখন সর্বোচ্চ ভিউজের নাটকের অভিনেতা নিলয় আলমগীর। গেল বছরে মুক্তি পাওয়া ‘শ্বশুর বাড়িতে ঈদ’ নাটকটি ৫৮ মিলিয়ন দর্শক দেখেছেন। যা পর্দার নাটকের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক।
নাটকের সিকোয়েন্স এর শট দিয়ে নিলয় বসলেন আমাদের সাথে কথা বলতে। নাটকে নতুন রেকর্ডের জন্য আনন্দভুবন পরিবার থেকে অভিনন্দন জানাই তাকে। সেইসঙ্গে নতুন রেকর্ডের অনুভূতি জানতে চাই নিলয়ের কাছে, প্রচুর গরম, তবুও যেন ক্লান্তি স্পর্শ করতে পারেনি নিলয়কে। ঠোঁটের দু’কোণে হাসি দিয়ে এইভাবে অনুভূতি ব্যক্ত করলেন নিলয়, “কিছুদিন আগে হঠাৎ একটি নিউজে চোখ আটে যায়Ñ ‘রেকর্ড ভাঙলেন নিলয় আলমগীর।’ বিস্তারিত দেখে জানতে পারলাম আমার অভিনীত মহিন খান পরিচালিত ‘শ্বশুর বাড়িতে ঈদ’ নাটকটি এখন সর্বোচ্চ ভিউজের নাটক। এটা অবশ্যই ভালো লাগার একটি সংবাদ। আমি আনন্দিত, আমার একটি নাটক দর্শক এত পছন্দ করেছেন। যদিও বলা হয় ভিউজ নাটকের মানদ- হতে পারে না। তবে, আমি মনে করি দর্শক যেহেতু নাটকটি ভালোবেসে দেখেছেন, আমরা যারা কাজ করি, মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্যই কাজ করি। দর্শকের ভালোবাসাকে আমি সম্মান করি।
শুধু ‘শ্বশুর বাড়িতে ঈদ’ই নয়, নিলয় অভিনীত প্রত্যেকটি নাটকই এখন ভিউজের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকছে। শুধু তাই নয়, ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে এগিয়ে থাকছে নিলয় অভিনীত নাটকগুলো। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, মুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বেশিরভাগ নাটকের ভিউজ ছাড়িয়ে যাচ্ছে ১০ লাখেরও বেশি। তাই নিলয়কে নিয়ে কাজ করার আগ্রহও থাকছে প্রযোজক পরিচালকদের বেশি।
এত যার অর্জন তার ভেতরে নেই বিন্দুমাত্র অহঙ্কার। নিলয়কে কাছ থেকে যারা দেখেছেন হয়ত এই কথার সঙ্গে একমত হবেন। যেখানে অনেক শিল্পীকেই দেখা যায় একটু জনপ্রিয়তা পেলেই নিজেকে পালটে ফেলেন, সেখানে নিলয় পুরোই ব্যতিক্রম। প্রথম দেখাতেই মনে হবে আপনজন।
নিলয়ের কাছে জানতে চাই অল্প সময়ে এত ভিউজের কারিশমাটা কী ? নিলয় একটু হেসেই বললেন, “রহস্য দর্শকের ভালোবাসা। আগের নাটকগুলোর ভিউজ কাউন্ট করা যেত না। কয়েক বছর ধরে ভিউজ কাউন্টের হিসাবটা চলে আসে। এখন কেমন ভিউজ হলো সেটা সরাসরি জানতে পারি। আগে শুধু নাটক নিয়ে আলোচনা হলেই বোঝা যেত নাটকটি দর্শক দেখেছেন। এখন বিষয়টি পরিষ্কার, দর্শক কোন নাটকটি দেখছেন, কোন নাটকটি দেখছেন না, সেটা ভিউজের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।”
নিলয়ের নাটকের দর্শকপ্রিয়তার আর একটি প্রধান কারণ, তার নাটকে নানা চরিত্রের শিল্পী থাকেন। যেখানে কিছুদিন আগেও মাত্র কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে নাটক নির্মাণ করতে দেখেছেন দর্শক। অনেকে তো এই নিয়ে সমালোচনাও করেছেন। কারণ, একটি গল্পে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা দিয়েই শেষ করা হতো। দর্শকের প্রশ্ন ছিল এদের কি পরিবার নেই ?
এই চিন্তা থেকে নিলয় আলমগীর সিদ্ধান্ত নেন, গল্প যেটাই হোক নাটকের পা-ুলিপি হতে হবে পরিবারকেন্দ্রিক। এই প্রসঙ্গে নিলয় বলেন, “শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি নাটকে ফ্যামিলি ইনভলব করানোর। দর্শকও এই ব্যাপারটি গ্রহণ করেছেন। হয়ত আমি একটু কমেডি ঘরানার কাজ করি, সেটা করতে আমার খুব আনন্দও লাগে। মানুষ দেখেও আনন্দ পায়।”
নিলয় অভিনীত কমেডি ঘরানার নাটক ছাড়াও ভিন্ন গল্পের নাটকগুলো দর্শক দেখছেন তার প্রমাণ তার অভিনীত ‘মামার বাড়ি’, ‘আত্মীয়’, ‘মন মাজার’, সবশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নিহারকলি’। ‘নিহারকলি’ নাটকটি ২২ ঘণ্টায় ১ মিলিয়ন দর্শক দেখেছেন, তিনদিনে নাটকটি ৩০ লক্ষ দর্শক দেখেছেন।
নাটকটি একটি হাতির কাহিনি নিয়ে আবর্তিত হয়েছে। নাটকের কমেন্টস দেখলে বোঝা যায় নাটকটি দর্শকদের কাঁদিয়েছে। নাটকটি প্রসঙ্গে নিলয় বলেন, “মানুষ যখন একটি ইউনিক গল্প পায় সেটা দেখার চেষ্টা করে।”
‘নিহারকলি’ একটি প্রাণী ও একটি পরিবারের জীবন নির্বাহের গল্প। গল্পে দেখা যায়, হাতিটি অল্প বয়েসে সার্কাসে খেলা দেখিয়েছে, হাতির আয় দিয়ে একটি পরিবার জীবন নির্বাহ করত। যখন হাতিটির বয়েস হয়েছে তখন আর সে সার্কাসে কাজ করতে পারছে না। হাতির প্রতি রয়েছে পরিবারের অগাধ ভালোবাসা। তারা তাকে তাদের সন্তানের মতই লালন-পালন করে। হাতি দিয়ে আয় না হওয়ায় পরিবারটি ঠিকমতো খেতেও পায় না, হাতিকে খাওয়াবে কী করে ! তারা ঠিক করে হাতিটিকে বিক্রি করে দেবে, কিন্তু বয়স্ক হাতি কেউ কিনতে চান না, তখন হাতিকে বাঁচানোর জন্য বিনামূল্যে দিয়ে দিতে চায়, তাও কেউ নিতে চান না। এইভাবে ‘নিহারকলি’ এগিয়ে যায় সমাপ্তির দিকে। অফট্র্যাকের এই নাটকটি প্রমাণ করেছে, শুধু হাসির গল্প হলেই দর্শক নাটক দেখে না, গল্প ভালো হলেই দর্শক নাটক দেখেন।
প্রাণীদের প্রতি নিলয়ের রয়েছে অগাধ ভালোবাসা। তার প্রমাণও দিয়েছেন তিনি। গেল বছর সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাওয়া বন্ধ হলে, সেখানে থাকা কুকুরগুলো খাবার পাচ্ছিল না, সে-সময়ে নিলয়ের কাছে একজন একটি ভিডিও পাঠায়, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিল, মৃত একটি কুকুরের মাংস খাচ্ছিল একটি জীবিত কুকুর। সেই ভিডিওটি নিলয়কে আহত করে। সাথে সাথে নিলয় তার ফেসবুকে বিষয়টি শেয়ার করেন এবং বেশ সাড়া পান। তখন তিনি একটি ফান্ড কালেক্ট করেন সেইসঙ্গে দ্রুত ‘রক ও সোয়ান’ টিমকে সেন্টমার্টিনে পাঠান। তারা সেখানে গিয়ে ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোকে খাওয়ান। প্রাণীদের প্রতি একজন শিল্পীর, একজন মানুষের ভালোবাসা সত্যিই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রাণীপ্রেমিক এই মানুষটি এখনো প্রাণীদের সেবা করে চলেছেন, যখন রাস্তায় কোনো অসুস্থ প্রাণীকে দেখেন, তাকে তুলে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
বাড়িতেও তিনি বিড়াল পোষেণ, নিলয়ের অনুপস্থিততে তার স্ত্রী ও মা বিড়ালগুলোর দেখাশোনা করেন। বর্তমানে তিনটি বিড়াল রয়েছে তার বাসায়।
প্রাণী পালন প্রসঙ্গে নীলয় বলেন, “প্রাণীদের প্রতি সবারই কমবেশি ভালোবাসা রয়েছে। কেউ প্রকাশ করেন, কেউ করেন না। অনেকেই মায়া করে পশু-পাখিদের কিছু খেতে দেন, এজন্যই পশু-পাখিরা বেঁচে আছে। সবাই যদি চেষ্টা না করত আমাদের আশেপাশে পশু-পাখি বেঁচে থাকত না। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই পশু-পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার ক্ষেত্রে বড়ো অবদান রাখে। সবাই যদি যার যার জায়গা থেকে একটি করে প্রাণীর দায়িত্ব নেন তাহলে নিরীহ প্রাণীদের আর কষ্ট থাকত না।”

নিলয়ের সাথে যখন কথা হচ্ছিল তখন তিনি ‘মাছের মানুষ’ শিরোনামের একটি নাটকে অভিনয় করছিলেন। নাটকটি আসন্ন ঈদুল আজহায় তার ইউটিউব চ্যানেল নিলয় আলমগীর ফিল্মস [এনএএফ] চ্যানেলে প্রচার হবে। নাটকে দেখা যাবেÑ বাবা আর ছেলে মাছের ব্যবসা করে। বাবা চরিত্রে মাসুম বাশার ও ছেলে চরিত্রে নিলয় আলমগীর অভিনয় করছেন। তাদের অর্থের অভাব নেই। সমস্যা হয় নিলয়ের বিয়ে নিয়ে। হিমিদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব দিলে, হিমির পরিবার সেই বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। তাদের ধারণা ওই পরিবার যেহেতু মাছের ব্যবসা করে তাদের শরীরে মাছের গন্ধ আছে। এইভাবেই গল্পটি এগিয়ে চলে। নাটকটিতে আরো অভিনয় করেছেন, সাবেরী আলম, রকি খান, রোজা, কাঞ্চন প্রমুখ। এই নাটকটি ছাড়াও আরো বেশকিছু নাটক আসন্ন ঈদে মুক্তি পাবে নিলয়ের।
সবকিছু মিলিয়ে নিলয়ের বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নিলয় আলমগীর দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন। একটি মাসুদ কায়নাতের ‘বেইলী রোড’ অন্যটি ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’। এরপর আর কোন সিনেমায় দেখা যায় নি তাকে। এই প্রসঙ্গে নিলয় বলেন, “যখন সিনেমা দুটিতে কাজ করি তখন আমিও নতুন ছিলাম, যারা নির্মাণ করেছেন তারাও নতুন ছিল, সবকিছু মিলিয়ে হয়ত কাজটি দর্শকের ভালো লাগেনি। সেজন্য সিনেমাতে ক্যারিয়ার হয়নি। সিনেমাতে আরও কাজ করার তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে, যারা সিনেমাতে পরীক্ষিত পরিচালক, তাদের সিনেমায় যদি সুযোগ পাই, তাহলে হয়ত বড়োপর্দায় দর্শক আমাকে দেখতে পাবেন।” ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে নিলয় বলেন, “আমি অপ্রাপ্তি খুঁজি না, প্রাপ্তিটাই দেখি, অনেক ভালো সময় কাটছে, আমার মনে হয় ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ সময়ে অনেক কাজ করতে পেরেছি, দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি, আমি সন্তুষ্ট।”
খ্যাতির অনেক বিড়ম্বনাও থাকেÑ এই প্রসঙ্গে নিলয় বলেন, “মানুষ ভালোবাসে বলেই তো কাছে আসে, ছবি তুলতে চায়, একটু কথা বলতে চায়, কিন্তু শুটিংটাইমে আমাদের সময় এত কম থাকে যে, ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় ভক্তদের আবদার পূরণ করতে পারি না। দেখা যায়, দিনের একটি দৃশ্য বাকি, সান চলে যাচ্ছে, দর্শক ছবি তুলতে কিংবা কথা বলতে চাইছে, এই দিকে পরিচালক বলছেন, ‘ভাই সান চলে যাচ্ছে, একটু দ্রুত করতে হবে।’ সবকিছু মিলিয়ে ভক্তদের ডাকে সাড়া দিতে পারি না। তখন তারা বলে আপনার কাজগুলো দেখি, ছবি বা কথা বলতে চাইলাম, আপনি শুনলেন না, এই রকম সমস্যাগুলো হয়। যারা ব্যাপারটা বোঝেন তারা হয়ত বলেন, ‘ওনাদের কাজটা করুক, আমরা দাাঁড়িয়ে দেখি।’ দর্শকের জন্যই তো আমরা, তারা ভালোবাসেন বলেই তো এই জায়গায় আসতে পেরেছি। যখন ভক্তদের ডাকে সাড়া দিতে পারি না, তখন কষ্ট হয়। খ্যাতি থাকলে বিড়ম্বনা থাকবেই, সেটা আর বলতে চাই না।”
রিয়েলিটি শো ‘সুপার হিরো সুপার হিরোইন’র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মিডিয়ায় তার পথচলা শুরু হয়। প্রতিযোগিতার পরপরই বড়োপর্দায় সুযোগ পান তিনি। অভিনয় করেন দু’টি ছবিতে। পাশাপাশি কাজ করেন বিজ্ঞাপনচিত্র ও নাটকে। তবে তাকে সবচেয়ে পরিচিতি এনে দেয় সালাহ উদ্দিন লাভলু পরিচালিত ‘সোনার পাখি রুপার পাখি’ ধারাবাহিক নাটকটি। এই নাটকে সেলিম চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় নিলয়ের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। আর এর পরপরই নাটকের একজন অভিনেতা হিসেবে নিলয়ের কাজ বাড়তে থাকে, পাশাপাশি তার জনপ্রিয়তাও বাড়তে থাকে। বিগত কয়েক বছরে নাটক ইন্ডাস্ট্রিতে নিলয় হয়ে ওঠেন একজন চাহিদাসম্পন্ন অভিনেতা, যাকে নিয়ে কাজ করার জন্য প্রযোজক পরিচালকের মধ্যে প্রবল আগ্রহের সৃষ্টি হয়। কারণ, তার নাটক মানেই হিট, তার নাটক মানেই ব্যবসাসফল নাটক।
ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পাঁচটি সর্বাধিক ভিউয়ের নাটকের মধ্যে নিলয় আলমগীরের দু’টি নাটক রয়েছে। নাটক দু’টি হলো মহিন খানের ‘শ্বশুর বাড়িতে ঈদ’ ও ‘সংসার আমার ভাল্লাগে না’। শুধু তাই নয়, এই সময়ে নিলয় আলমগীর অভিনীত যেসব নাটক দারুণ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ ‘তরী’, ‘আদরে থেকো’, ‘পাপ’, ‘এক জনমে ভালোবেসে’, ‘সামির’, ‘মামার বাড়ি’, ‘মানুষ দেখতে কেমন’, ‘পাখির মতো মন’, ‘বদনাম’, ‘একসাথে’, ‘মন মাজার’, ‘ওয়াদা’, ‘বাহাদুরী’ ইত্যাদি। নিজের অবস্থান নিয়ে ভীষণ সন্তুষ্ট নিলয় আলমগীর।
ছবি : এ এস আকাশ রাজ