রাজবাড়ির মেয়ে লাবণ্য লিজা ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে উৎপল দত্ত পরিচালিত ‘টিনের তলোয়ার’ মঞ্চনাটকে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করেন। লাবণ্য লিজা এরই মধ্যে বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক ও খ- নাটকে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন। জনপ্রিয় নাট্যনির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলু’র ধারাবাহিক ‘কবুলিয়তনামা’ তার প্রথম টিভি নাটক। নাটকটিতে ‘পরী’ চরিত্রে অভিনয় করে বেশ প্রশংসিত হন। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক বহু দর্শকনন্দিত নাটক এবং বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এবারের আকাশলীনা আয়োজনে লাবণ্য লিজাকে নিয়ে বিস্তারিত। লিখেছেন শহিদুল ইসলাম এমেল...
দর্শকনন্দিত অভিনয়শিল্পী লাবণ্য লিজা বর্তমানে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক ও খ-নাটকের কাজ নিয়ে প্রচ- ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বাংলাভিশনে প্রচারিত হচ্ছে তাইফুজ্জামান আশিকের ‘মাথা গরম ফ্যামিলি’। তিন বোনের গল্প নিয়ে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। তিনজন মেয়ের স্বামীই ঘরজামাই থাকে। মেয়েগুলোর প্রচ- মাথা গরম। বাবারও মাথা গরম। এমনকি ওদের একটা ভাই আছে তারও একই অবস্থা। এজন্যই নাটকটির নাম ‘মাথা গরম ফ্যামিলি’। খুবই মজার একটি নাটক। দর্শকও নাটকটি অনেক পছন্দ করেছেন বলে জানান লিজা। এছাড়া শামীম জামানের ‘শাদী মোবারক’ নামে আরেকটি ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হচ্ছে মাছরাঙ্গা টিভিতে। মাছরাঙ্গা টিভিতে সকাল আহমেদের পরিচালনায়, বৃন্দাবন দাসের রচনায় আরেকটি দীর্ঘ ধারাবাহিক ‘বিশ্বাস বনাম সরদার বাড়ি’ প্রচারিত হচ্ছে। এছাড়া কায়সার আহমেদের ‘রূপনগর’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছে। নাটকটি ৩০ তারিখ থেকে দীপ্ত টিভিতে প্রচার হবে। ধারাবাহিকের বাইরে ‘বউ সকল সুখের মূল’সহ বেশ কয়েকটি সিঙ্গেল নাটকে কাজ করেন। গেল ঈদেও ইউটিউব এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে কয়েকটি নাটক প্রচারিত হয়েছে তার। এখনো হচ্ছে।
লাবণ্য লিজা’র প্রথম নাটক জনপ্রিয় নাট্যনির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলুর ‘কবুলিয়তনামা’। নাটকটি ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে প্রচারিত হয়। প্রথম নাটক নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লাবণ্য লিজা বলেন, ‘জীবনের প্রথম সবকিছুই একটা অন্যরকম অনুভূতি মানুষকে দেয়। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথম নাটকের অভিনয়ের অনুভূতি ডেফিনেটলি অন্যরকম ছিল। জীবনে প্রথম অভিনয় করছি এটা ভেবে। তখন আসলে নার্ভাসনেস বেশি কাজ করছিল। আমার প্রথম কাজটি ছিল সালাউদ্দিন লাভলু ভাইয়ার। তাই নার্ভাসনেস তো একটু থাকবেই। অভিনয়ের ক্ষেত্রে ওটা আমার লাইফের একটি বেস্ট স্কুলিং ছিল। ওনার কাছ থেকেই আমি বেশি শিখেছি। প্রথম কাজেই আমি মোশাররফ করিম, আ.খ.ম হাসান, রওনক হাসান, বন্যা মির্জার মতো স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পীদের পেয়েছি। নামকরা পরিচালক ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে আমি জীবনের বড়ো শিক্ষা হিসেবে নিয়েছিলাম। প্রথম নাটক আমার জীবনের অনেক বেশি প্লাস পয়েন্ট ছিল। আমার প্রথম নাটক এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে, যা আমার ক্যারিয়ারের জন্য বড়ো প্রাপ্তি’।

গ্রামীণ গল্প থেকে শুরু করে শহুরে গল্প- সবধরনের চরিত্রেই অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন লাবণ্য লিজা। তিনি অভিনয় করতে ভালোবাসেন, তাই যে চরিত্রেই অভিনয় করেন, সেই চরিত্রটাকেই নিজের মতো করে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।
লিজা নাটকের পাশাপাশি ‘গেম রিটার্নস’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন, তবে সিনেমার চেয়ে নাটকে অভিনয় করতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এজন্য সিনেমায় অভিনয় করতে আর আগ্রহ দেখাননি। ভবিষ্যতে ভালো গল্প পেলে আবারো চলচ্চিত্রে কাজ করার ইচ্ছে আছে তার।
লাবণ্য লিজা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মিডিয়ায় কাজ করছেন। মিডিয়ায় কীভাবে এলেন জানতে চাইলে বলেন, “মিডিয়ায় আসাটা আমার জন্য একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার ছিল। আমার ফুপা ইন্টারেক্টিভ মিডিয়া হাউজের অ্যাডমিনের হেড ছিলেন। আমি একদিন ওনার অফিসে শুটিং দেখতে যাই। আমার মনে আছে, সেদিন সম্ভবত চয়নিকা দিদির কোনো একটা কাজের শুটিং চলছিল চ্যানেল আইয়ের জন্য। ওখানে অনেক পরিচালকই আসতেন। একজন পরিচালক আমাকে দেখে ফুপাকে অফার করেন তার নাটকের একটা চরিত্রে অভিনয় করার জন্য। ফুপা আমাকে বলার পর আমি শুনে খুবই মজা পেলাম। অভিনয় করতে চাইলাম। অবশ্য আমার বাসা থেকে রাজি ছিল না। এরপর আমি থিয়েটারে যোগ দিই। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে অভিনয় শুরু করি। এই যে গল্পটা বললাম, এটা তার একটু আগের গল্প। থিয়েটারে যোগদান করার কিছুদিন পর থেকে মিডিয়াতে টুকটাক যাতায়াত করতাম। একসময় লাভলু ভাইয়ার সঙ্গে পরিচয় হলো। এভাবেই কাজ শুরু।”
মিডিয়া জগতের অনেকেরই নানা ধরনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে। আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ? “আসলে মানুষ তো ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলতে পারে না। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এইটুকু বলতে পারি, সেটা হচ্ছে আমার হাসবেন্ড [আরজে নীরব] ও আমার মেয়ে [নিয়া কবীর]-কে নিয়ে। আল্লাহ আমাকে সুন্দর একটা পরিবার দিয়েছে। এই পরিবারকে নিয়েই যেন ভবিষ্যৎ হয় আমার। একসাথে থাকা, আমার মেয়েকে ঠিকমতো বড়ো করে তোলা, একসাথে বেড়ে ওঠা, একসাথে চলা, এটা ছাড়া আমার ফিউচার প্ল্যান বলতে কিছু নেই।”
সারাদিন বিভিন্ন নাটকের শুটিংয়ের পর খুব একটা অবসর পান না লিজা। অভিনয় এবং সংসারের কাজ সামলে যখন একটু অবসর পান তখন পাগলের মতো ঘুমান। তখন মাথায় আর কোনো চিন্তা থাকে না। এর ফাঁকে একটু অবসর পেলে, মেয়েটাকে সময় দেন। বাসায় কোথায় কি একটু ঝামেলা হচ্ছে সেগুলো ঠিকঠাক করেন। টিভি দেখেন। মুভি ও সিরিজ দেখেন, লিজা ও নীরব দু’জন মিলে। এছাড়া একসাথে সময় কাটানোর জন্য, কোথাও ঘুরতে যান, খাওয়া-দাওয়া করেন। লিজা’র পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে বাঙালির সবধরনের খাবার। তার প্রিয় ঋতু শীত এবং প্রিয় রং সাদা।