কলকাতার ছবি ‘ভালোবাসার মরশুম’-এ অভিনয়ের কথা ছিল অভিনেত্রী তানজিন তিশার। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার আগেই সরে দাঁড়ান তিনি। এরপর শুরু হয় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। প্রথমে ছবির প্রযোজক পরিচয় দেওয়া শরীফ খান অভিযোগ তোলেন, কাজ না করেও তিশা নাকি ফেরত দিচ্ছেন না অগ্রিম পারিশ্রমিক সাড়ে চার লাখ টাকা। যদিও তিশার দাবি, শরীফ ছবির কোনো প্রযোজকই নন।
অভিযোগের জবাবে ২৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে তিশা ফেসবুকে এক বিবৃতি দিয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ছবির কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এবার ছবির পরিচালক এমএন রাজ মুখ খুলেছেন বিষয়টি নিয়ে। তিনি স্পষ্ট করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিশা ভুল বিবৃতি দিচ্ছেন।’ পরিচালকের দাবি, ‘তিশাকে টাকা দেওয়া হয়েছে। কাজ না করায় সেই টাকা তাকে ফেরত দিতেই হবে।’
এক সাক্ষাৎকারে এমএন রাজ বলেন, যেহেতু তিশাকে টাকা দেওয়া হয়েছে, সে অবশ্যই ফেরত দেবে। কোনো চুক্তিপত্রে টাকা ফেরতের বিষয় উল্লেখ থাকে না। সে কাজ করেনি, কিছু টাকা তো ফেরত দিতেই হবে।’

পরিচালক আরো বলেন, তিশার জন্য একমাস অপেক্ষা করেছি। এমনকি বলিউড অভিনেতা শারমান যোশির শিডিউল পরিবর্তন করতে হয়েছে তার সুবিধার জন্য। তার ভাষায়, ‘তিশার জন্য রিকোয়েস্ট করে শারমানের তারিখ বদলেছি। কিন্তু তিশা অ্যাম্বাসিতে গিয়ে পাসপোর্টটাও জমা দেয়নি। সে আমেরিকায় চলে যায়। আমি শুধু বলেছিলাম, পাসপোর্ট জমা দাও, তারপর যাও।’
৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় তিশার অ্যাম্বাসিতে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যান একঘণ্টা দেরিতে। “১০টায় গিয়ে বললো, বিকেলে ভিসা নিশ্চিত করলে পাসপোর্ট জমা দেবে। এটা সম্ভব না বলতেই সে অপমানজনক ভঙ্গিতে বললো ও ফড়হ'ঃ পধৎব ধনড়ঁঃ রঃ। ১৫-২০ মিনিটের মাথায় সে চলে যায়। আর সার্ভার তখনই ঠিক হলো! আমি খুব অপমানবোধ করি। একজন শিল্পী পরিচালককে এভাবে বলতে পারেন না।”

ফেসবুক বিবৃতিতে তিশা বলেন, ছবির কাজ সেপ্টেম্বরেই শুরু হওয়ার কথা, কিন্তু পরিচালক প্রস্তুত ছিলেন না। উল্টো তাকেই নাকি অপেক্ষায় রাখা হয় দীর্ঘ সময়। এ কারণে তিনি সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
পরিচালকের উত্তর, ‘এটা ভুল কথা। জুলাইয়ে কথা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শুটিং ছিল। ভিসার স্লট বের করতে সমস্যা হচ্ছিল, কিন্তু তিশা নিজে কোনো চেষ্টা করেনি। আমরা সব ব্যবস্থা করেছি। ‘তিশার জন্য আমরা সেপ্টেম্বরের ১৭-১৮ ও ১৯ তারিখ নায়িকা ছাড়াই শুট করেছি। দুর্গাপূজার আগে পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। এরপর বাধ্য হয়ে নতুন নায়িকা নিয়েছি। এখন সে ভুল বিবৃতি দিচ্ছে। এটা উচিত নয়।’
পরিচালক জানিয়েছেন, ছবির ৭৫ শতাংশ কাজ এখন সম্পন্ন। আগামী জানুয়ারিতে দ্বিতীয় লট শুরু হবে। ছবিটি ভালোবাসা দিবসে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।