: কেন জানা নেই, আপনাকে আমার জীবনের একটা অধ্যায় জানাতে খুব ইচ্ছে করছে কিন্তু জানানো ঠিক হবে কি না ঠিক বুঝতে পারছি না।
- সেটা কেন মনে হচ্ছে ?
: না-মানে, আপনার যে লেখার হাত আছে; ভয়টা সেখানে।
- ভয় !
: হ্যাঁ, ভয়- যা শুনবেন, যদি তা-ই ‘লেখার বিষয়’ বানিয়ে ফেলেন ?
- ও! ভয়টা নিছক অমুলক নয়। তাই, গোপনীয় কোনো ব্যাপার হলে না-বলাই ভালো। মন আর ইচ্ছাশক্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে কথা দিতে পারছি না। জানেনই তো, ‘নিষিদ্ধ বিষয়ে সবার আকর্ষণ থাকে দুর্বার ?’
: থাক। তাহলে না-বলি।
- সেটাই ভালো হয়। কৌতূহল দমনে যথেষ্ট পারদর্শী আমি। আপনার বিষয়। কী করবেন আর কী করবেন না, সিদ্ধান্তও আপনার।
: হঠাৎ করেই খুব বলতে ইচ্ছে হলো তো, মানা করছেন যখন ...
- প্রসঙ্গ তো আমি ওঠাইনি। আপনিই সেধে জানাতে আগ্রহী হয়ে উঠে আবার আপনিই চুপসে গেলেন।
: জ্বি-জ্বি। তা বটে-তা বটে। আসলে হয়েছে কি, একজন পরিচিত মানুষের সঙ্গে পাশাপাশি বসে এতটা পথ যাব ... কথা না-বলে থাকিই বা কী করে?
- কথা বলতে তো নিষেধ করিনি ! বলেছি, প্রসঙ্গ পাল্টাতে।
: আরে র্ধু ! অত হিসাব-নিকাশ করে জীবন চালানো যায় না কি ? মনে যা এসেছে, এক্ষুনি তা প্রকাশ করতে না-পারলে মনে হচ্ছে যেন ছটফটিয়েই মারা যাব।
- আপনার মনে কোন বিষয়ে কী এসেছে তা আন্দাজ করতে পারছি না যদিও, তবুও সেটা এক্ষুনি প্রকাশ করতে না-পারলে যদি সত্যিই অস্বস্তি বোধ করে থাকেন, তাহলে দ্বিধা না-বাড়িয়ে না-হয় একটু রেখে-ঢেকেই বলুন, নাম-পরিচয় আড়াল করে।
: তাই সই। মনের আগল খুলে হালকা হওয়া যাক বরং- বয়স তখন আন্দাজ ১৬ চলছে। আমাদের গ্রামেই দাদার প্রতিষ্ঠা করা স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পাশ করে ঘরে বসে আছি।
- কেন ?
: দাদার স্কুলে নবম শ্রেণি নেই। আমাদের গ্রামে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো স্কুলই নেই। ছাত্র ভালো ছিলাম। বাবার মেজ ছেলে আমি। আমার পরে আরও দু’ভাই আছে। বোন আছে দু’জন। সংসারে টানাটানিও আছে। কী করি ? কী যে করি ?
- পাশের গ্রামের কোনো স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করা যেত না ? সেখানে গিয়ে ভর্তি হতেন।
: জ্বি-না, পাশের কোনো গ্রামেই কোনো হাইস্কুল নেই। আরও মাইল তিনেক দূরের এক গ্রামে একটা হাইস্কুল ছিল বটে কিন্তু সেখানে পরিচিত কেউ থাকে না। আমার নজর ওইদিকেই ছিল। বাড়ি থেকে হেঁটে এতদূর যাতায়াত করে প্রতিদিন ক্লান্ত হয়ে গেলে পড়ার সময়ই তো পাব না। বাবার সামর্থ্যও ছিল না আমার পড়ার খরচ চালানোর। কী করবো- কী করা কর্তব্য ভেবে কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছিলাম না।
- স্কুলটার নাম কী ? কোন অঞ্চলে ছিল সেটা ?
: জ্বি- মানে ...
- আচ্ছা- থাক। নাম ছাড়াই চলুক গল্প। হ্যাঁ, তারপর ?
: তো এক বিকালে আমারই একসময়ের সহপাঠী নূরুল করিমের সঙ্গে দেখা হওয়ায় কথা প্রসঙ্গে ওকে মনের আশঙ্কার কথা খুলে বললাম। নূরু বয়সে আমার চেয়ে বছর দু’-একের বড়ো হবে। প্রাইমারিতে একই স্কুলে পড়লেও এখন মাদ্রাসায় পড়ে। পড়াশোনায় মনোযোগী না। ফেল করে। ওকে চাষবাসও করতে হতো। ওই বয়সেই সংসারের হাল ধরায় ওর পড়া আর আগায় নাই। নূরু আমারে বলল, ‘আমি ওই গেরামের একটা পরিবাররে চিনি। অরা অগো দুই পোলারে পড়ানোর লাইগা জায়গীর মাস্টার খুঁজতেছে। কালকেই চল। খোঁজ নিয়া আসি।’
গেলাম। তিন মাইল হাইট্যা। বাড়িটা দেইখাই না খুব পছন্দ হইয়া গেল ! নিরিবিলি। ছিমছাম। মালিক সজ্জন ব্যক্তি। বাইরের উঠানে ‘বাংলা ঘর’ আছে। ওইখানেই আমারে থাকতে হবে। ছেলে দুইটা ছোটো। দেখলাম অবাধ্য না, কথা শোনে। খুবই ভালো। পড়াশোনায়ও খুব মনোযোগী। সবদিক মিলিয়েই খুউব পছন্দ হয়ে গেল। প্রথমদিনই ওরা খাতির-যত্নও করলো বেশ। এককথায় তাই রাজি হয়ে গেলাম।
- বাহ্! মাসে কত টাকা করে দেবে টিউশন ফি ?
: টাকা দেবে কেন ? আমি ওই বাসায় থাকব-খাব-নিজের পড়াশোনাও ওদেরই সৌজন্যে চালিয়ে যাব ; এ কী কম কথা ! আমি আমার স্বপ্ন পূরণের পথ খুঁজে পেয়েছি। হাতে যেন চাঁদ পেলাম।
- থেকে গেলেন ?
: হ্যাঁ। মানে না, সেদিন তো নূরুর সঙ্গে বাড়ি ফিরে এলাম। পরদিনই যাকিছু সম্বল ছিল, সঙ্গে নিয়ে বাড়ির মুরুব্বিদের সালাম করে চলে গেলাম নতুন জীবনে। ভর্তি হলাম হাইস্কুলে ক্লাস নাইনে। নিজেও পড়ি, ছেলে দুটোকেও পড়াই। সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে আরও দুইটা টিউশনি করি। সিক্স- সেভেনের দুই ছাত্রকে গণিত আর ইংলিশ পড়াই। বেশ ভালো কাটছে দিনকাল।
- হ্যাঁ, ভালোই তো মনে হচ্ছে যেটুকু শুনলাম তাতে, খাবার খেতে পারছিলেন তো ঠিকমতো ? না, মানে নতুন পরিবেশ- নতুন রান্নার স্বাদ পছন্দ হচ্ছিল ? সমস্যাটা শুরু হলো কখন ? কী কারণে ?
: একেবারে পারফেক্ট। কোনো সমস্যা হচ্ছিল না তো ! কোনো ঝামেলাই বোধ করছিলাম না।

- ও ! তাহলে গল্পটা কোথায় ?!
: কোন গল্প ?
- যেটা জানাতে চাচ্ছেন ?
: এই তো, আপনার কৌতূহল জেগে উঠছে !
- স্বীকার করছি। আমি আপনার গল্পের ভেতরে ঢুকে পড়েছি তো, তাই আপনার ছটফটানি আমার মধ্যেও চলে এসেছে। বলুন, তারপর কী এমন হলো যেটা কাউকে বলে হালকা হতে চাইছেন ?
: প্রথমে একদিন শুধু চুল দেখলাম।
- কার ?
: তার।
- তার মানে কার ? ভূত না পেত্নির ?
: আহ্ হা! গল্পে বাধা দেবেন না। শুনে যান।
- দুঃখিত। হ্যাঁ, তারপর ?
: শীতকাল ছিল তখন। বাড়িতে সেদিন কোনো পুরুষমানুষ না-থাকায় খালেক-মালেকের বড়ো বোন গোসল করে রোদে চুল মেলে দিয়ে বসেছিল। আমার স্কুল বোধহয় একঘণ্টা আগেই সেদিন ছুটি হয়ে গিয়েছিল। আমি নিশ্চিন্তে উঠানে পা দিয়েই দেখলাম দীঘল ঘন কালো চুল পাহাড়ি ঝরনার মতন ঝিলিক দিতে দিতে মাটিতে আছড়ে পড়ছে। আমার পায়ের আওয়াজ পেয়েই মেয়েটা বড়ো ঘোমটা টেনে নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে গেল। একবার ফিরেও তাকাল না। ব্যস, এইটুকুই ঘটনা।
সন্ধ্যার পর পড়াতে বসে খালেক-মালেকের কাছে জানতে চাইলাম- তোমাদের বাসায় কি কোনো কুটুম এসেছে বেড়াতে, লম্বা চুলের এক মেয়েকে দেখলাম যে উঠানে ?
“না তো! ও বুঝছি, বুজানরে দ্যাখছেন।”
: ও আচ্ছা-আচ্ছা। খুব ভালো। খুব ভালো। আচ্ছা পড়।
- ব্যস্ !
: জ্বি। মনে যাই থাক, খালেক-মালেক নেহায়েত শিশু, ওদের সামনে বেফাঁস কিছু বলে এত আরামের থাকা-খাওয়ার জায়গাটা হারাবো নাকি !
- মানে হলো, আপনার দুই ছাত্রের সামনে আপনি ফেরেশতা সাজলেন ; যাদের কাছে আপনি লজিং-মাস্টার ; তাইতো ?
: আপনি দেখছি মাইন্ড-রিডিং জানেন !
- বাদ দিন। আগান।
: হ্যাঁ- আমার দুই ছাত্র, খালেক-মালেক। ওদের যে বড়ো বোন আছে টের পাই নাই। জানার পর থেকে বাংলা-ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে একচোখ বন্ধ করে কেবল তাকিয়ে থাকতাম, চোখ ব্যথা হয়ে যেত, তাও তাকিয়ে থাকতাম যদি কালে-ভদ্রে অন্তত একটু চোখের দেখা দেখতে পাওয়া যায়... হায় !
- কস্মিনকালেও আর তার দেখা মিলল না এবং আপনি না-দেখেই অবচেতনে তার প্রেমে পড়ে গেলেন ; ঠিক ?
: জ্বি, না-দেখেই প্রেমে পড়ে গেলাম। খালেক-মালেককে কিছু জিজ্ঞাসাও করতে পারছি না আশ্রয় হারানোর ভয়ে। এদিকে আমার স্বপ্ন তো অনেক বড়ো- ম্যট্রিক পাশ করে ঢাকায় যাব। কলেজে ভর্তি হব। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব। তারপর, তারপর আরও কত কী যে করব !
- বুঝতে পেরেছি।
: কী বুঝতে পেরেছেন ?
- বয়সের ধর্মই এই। তারুণ্যের পথে হাঁটছেন না তখন ? সেই বয়সে এই ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
: জ্বি জ্বি। আমি যেন একটা ঘোরের জগতে প্রবেশ করলাম। ইচ্ছাপূরণ হচ্ছে না দেখে অন্যভাবে ইচ্ছা পূরণ করলাম।
- সেটা কীভাবে ?
: কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতাম গল্পের জাল বুনে।
- ও! ডায়েরি লিখতেন ? না কি আপনিও গল্পকার ?
: এইবার আপনি ফেল মারলেন।
- মানে !
: ডায়েরি-গল্প কিছুই লিখতাম না। দৈনন্দিন কাজ, পড়ালেখা, স্কুল সবই চলতো নিয়মমাফিক। কেবল আমার ভেতরের আমিকে উগড়ে দিয়ে আসতাম নূরুল করিমের কাছে।
- নূরুর কি নিয়মিত যাওয়া-আসা ছিল এই বাড়িতে ?
: ওর সেই সময় কোথায় ! আমিই, ফাঁক-ফোঁকড় বের করে যেতাম ওর কাছে। গিয়ে, বানিয়ে বানিয়ে কত কী যে বলতাম ! আহা ! কী রঙিন- সেইসব দিন!
- শুনি, দু’-একটা নমুনা।
: নূরুকে বলতাম- জানিস নূরু, খালেক-মালেকের বোন না আমারে আড়চোখে দেখে। নূরু বলতো, ‘তুই দ্যাখস না ?’ ‘নাহ্। আমি অনুভব করতে পারি যে, ও আমারে দেখতেছে।’ ‘ক্যামনে ?’ ‘পুকুরপাড়ে যাওনের সময় ও ইচ্ছা কইরাই ভিতরবাড়ি দিয়া না-গিয়া বাহিরবাড়ি দিয়া যায় আর চোরা চোখে চায়। একদিন আমি গোসলের সময় আপনমনে গান গাইতেছিলাম। ও শুনছে। সেইদিন বিকালে ও বাংলা ঘরের জানালায় পরথমবারের মতন এক ঝলক দেখা দিয়াই লাজমাখা স্বরে বলল, ‘আপনের গানের গলা মাশাআল্লাহ্ খু-উ-ব সুন্দর। বড়ো হইলে ওস্তাদ গায়ক হইবেন।’- বইলাই, আমার প্রতিউত্তর না-শুইনাই গেল পালাইয়া।
- ‘ও’ দিয়েই চালিয়ে যাবেন ? নামটা জানাবেন না ?
: দিয়ে নিন না নিজ পছন্দে কোনো একটা নাম।
- মানসী।
: ‘মানসী’ ; কী মানানসই নাম ! দুর্দান্ত পছন্দ আপনার ! মনে হয় যেন ঠোঁটের আগায়ই ছিল নামটা ?
- না, একেবারেই না। আপনার গল্প শুনতে শুনতেই মনে এলো। হ্যাঁ-কী যেন বলছিলেন ?
: এরপর কী হলো জানেন ?
- নাহ্- আপনি জানালেই তবে জানব।
: হাহ্-হাহ্-হা... আচ্ছা বলি তাহলে। নূরুর আগ্রহ এত বাড়ল আমার বানানো গল্প শুনে যে কী বলব ! ওর সঙ্গে দেখা হলেই কেবল মানসীর কথা শুনতে চাইত- আচ্ছা মানসী দেখতে কেমন ? এরপর মানসী কী বলল ? ওইদিন কী করল তোরে শুকনা ডাঙায় আছাড় খাইতে দেইখা ? তুই ওরে কী বললি ? -এইসব প্রশ্ন আরকি। আমি মানসীর সঙ্গে কীভাবে দেখা করি-কী কথা বলি সেইসময় সেইসব খুবই আগ্রহ নিয়া জানতে চাইত। আমিও কল্পনার রঙিন পাখায় ভর করে চালিয়ে যেতাম। এই যেমন, আপনাকে বলি- এক সন্ধ্যায় হারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে বসেছি। কখন যে জানালার পাশে মানসী এসে দাঁড়িয়েছে, টের পাইনি। ওর বাবা তখন মসজিদে। তাই ওর সাহস একটু বেড়েছে। ওর উপস্থিতি টের পেলাম কীভাবে ? হাওয়ায় ভেসে আসা কোনো এক পরীর কণ্ঠস্বর শুনে- আপনের পড়ার আওয়াজটাও কী সুন্দর ! মনে কয় য্যান গুনগুনাইয়া গান করতেছেন।
‘কে?’ বলে, যেই জানালা দিয়ে দেখতে গেলাম, সরে গিয়েই দৌড়ে পালালো।
- নাহ্, এখন মনে হচ্ছে নামটা ‘অধরা’ হলেই বেশ হতো।
: খালেক-মালেকের কাছ থেকে ততদিনে ওদের বুজান সম্পর্কে বেশকিছু জানা হয়ে গেছে ওদেরই বলা গল্প শুনে শুনে।
- গুড।
: যথারীতি নূরুর কাছে সেসবও বলেছি বাছ-বিচার না করে।
- তার মানে, দুই দোস্তর কথা বলার একমাত্র সাবজেক্ট হয়ে উঠতে পেরেছিল তখন অদেখা-অধরা মানসী।
: হ্যাঁ..., একদম তাই ; ঠিক বলেছেন।
- কী কল্পনা করতেন, তা তো শোনা হলো। বাস্তবও কি কিছু শুনতে পাব ?
: আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না-পেরে নূরুকে সবই বলেছি বয়সের দোষে কিন্তু আপনাকে না বলি ; কেমন ?
- সে আপনার মর্জি। তাছাড়া বললেও, ৫০ বছর আগের বিশ শতকের এই বাংলাদেশের কোনো এক গ্রামের, কোনো এক কিশোরীর সঙ্গে আপনার স্বপ্ন-বাস্তবতা মিলিয়ে একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান আমি কী-বা উদ্ধার করব ?
: দুঃখিত। রাগ করলেন নাকি ?
- নাহ্ ; রাগের প্রশ্নই ওঠে না এখানে। দূরপাল্লার যাত্রী হয়ে পাশাপাশি বসেছি বলেই কথা বলছি-শুনছি। সময়টা কেটে যাচ্ছে কল্পনারাজ্যে-মন্দ কী !
: জ্বি-জ্বি সেটাই। তো, বলি তাহলে...
- বলুন, মন চাইলে। শুনছি।
: মানসীর সাহস আরও একটু বাড়ল পর্যায়ক্রমে। সময়সুযোগ বুঝে একদিন দুইভাই যখন পাঠশালায়, তখন বাংলা-ঘরে আসল। নীরবে। পা টিপে টিপে।
আমি নোট করছিলাম। পেছন থেকে হঠাৎ এসে আমার ডানহাতের আঙুলের ওপর ওর কোমল হাত আলতোভাবে ছুঁইয়ে দিয়ে বলল- আপনের দেখি সবই সুন্দর ! চুলের টেরিকাটা, গলার আওয়াজ, চোখ, হাতের আঙুল ; আর হাতের লেখা যে কী সুন্দর, কীভাবে বলব ! আমারে দিবেন ? আমি যত্ন কইরা রাইখা দিব। মাঝে-মইধ্যে বাইর কইরা দেখব।
- কী করলেন ? চিঠি লিখলেন না নোট ছিঁড়েই দিয়ে দিলেন ?
: কী আশ্চর্য ! আপনি মানুষের মন এত সহজে পড়তে পারেন !
সত্যিই আমি তাই করেছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে খাতার পৃষ্ঠাটা ছিঁড়ে দিয়েছিলাম ওকে।
- দাঁড়ান-দাঁড়ান, আমি কিন্তু এখন একটু গুলিয়ে ফেলছি কোনটা বাস্তব আর কোনটা কল্পনা তার মধ্যে।
: সবটাই কল্পনা ; পুরোটাই।
: রিয়েলি ? হাউ স্ট্রেঞ্জ !
- আচ্ছা, এই যে একটার পর একটা টুকরো টুকরো দৃশ্য বর্ণনা করে চলেছেন ; এর কোথাও মানসীর রূপবন্দনার ছিঁটেফোঁটাও নেই কেন, শুধু প্রথমদিনের ‘কেশদর্শন’ ছাড়া ?
: থাকবে কী করে ! বছর গড়াতে চলল, তখনো মেয়েটাকে একনজর দেখারই সৌভাগ্য হয়নি যে !
- কী বিস্ময়! মানুষের হৃদয়বৃত্তি বড়োই অদ্ভুত ! কখন যে কী করে বসে হায়- আবেগের বশে! নইলে ধনে-মানে-জ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত সত্তরোর্ধ্ব বয়সের এই আপনাকে দেখে কি আদৌ অনুমান করা সম্ভব যে, বয়সকালে আপনিও...!
: হাহ্ - হাহ্ - হা! হ্যাঁ, এই আমিও ...!
- সত্যি বলুন তো, মানসীকে কি আসলেই কখনোই দেখেননি ?
: মাত্র একবার। একঝলক।
- কীভাবে ?
: দৈবক্রমে। তখন ‘মাধ্যমিক পরীক্ষা’ চলছে। আমাকে পড়ালেখার জন্য ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা দিতে যাওয়া ছাড়া ঘর থেকে বের হই না বললেই চলে। খাবার বাংলা-ঘরেই দিয়ে যেত সবসময়। গোসলখানা-পায়খানা-কলপাড় বাইরে ; আলাদা আলাদা বানানো। কল মানে টিউবওয়েল আর কি। টিউবওয়েল চেপে বালতিতে বা বদনায় পানি ভরে নিয়ে যার যা প্রয়োজন ; সারতাম।
তো একদিন ঊষাকালে টয়লেটে যাওয়ার জন্য কলপাড়ে আসছি পানি নিতে। দেখি টয়লেট বন্ধ। কলপাড়ে বদনা সবসময় দুইটা রাখা থাকতো, যেন কেউ একটা নিয়ে ভিতরে গেলে আরেকজন সেই ফাঁকে পানি ভরে নিয়ে তৈরী থাকতে পারে। সেদিন কলপাড়ে বদনা একটা দেখেই বুঝেছি আর কি যে, কেউ গেছে ভিতরে।
দুই-এক মিনিট পার হওয়ার পর ঘোমটা দেওয়া, মুখ নিচু করা, শ্যামলা বরণ কোমল চেহারার এক কিশোরী বের হলো টয়লেট থেকে। মুখ তুলে একবার চাইলও না। কোনো শব্দ করল না। নীরবে বদনাটা কলপাড়ে রেখেই দ্রুত ঘরে ঢুকে গেল। দীনহীন আমি ভিতরের বেগ ভুলে আবেগে দাঁড়িয়ে পড়লাম। বুঝলাম, ও-ই ; সে-ই ! তারপর কী কাণ্ড করলাম জানেন ? ওহ্ স্যরি ; আমি না জানালে জানবেন কী করে ?
- হা-হা-হা-হা-হা ...
: বলছি-বলছি। পরেরদিন পরীক্ষা ছিল না তো, সেদিনের পরীক্ষা শেষ করেই চললাম নূরুর বাড়িতে পেট খালি করতে।
“জানোস নূরু, আমার পরীক্ষা চলতাছে তো, তাই মানসী নিজেই কল চাইপা পানি ভইরা দিল। কী সুন্দর ওর মুখের ছাঁদ ! নিখাঁদ-নিভাঁজ। হাতের গড়ন দেইখা মনে হয় এই হাতে যদি নিজের হাতে রেশমি চুড়ি পরাইয়া দিতে পারতাম! আহা ! ঢলঢল লাবণ্যে ভরপুর প্রকৃতি শ্যামলিমা আমার ; কবে হবো আমি শুধুই তোমার ?”
- আচ্ছা, এখন যে-ভাষায় আমাকে বর্ণনা করে শোনাচ্ছেন, যেসব শব্দ চয়ন করছেন, নূরুকে বলার সময়ও কি ঠিক একই শব্দমালা চয়ন করে সাজিয়ে, কথার ফুল ফুটিয়েছিলেন ?
: হাহ্-হাহ্ , বুঝতেই যখন পারছেন, বুঝেই নিয়েন। ওই আর কি! যা হয়...
- সাদাত হোসেন মান্টোকে মনে পড়ে গেল।
: কেন ?
- ‘সব মেয়েই কিশোরী বয়সে দেখনসই চেহারার হয়’- এটা তাঁরই উক্তি।
: দারুণ বলেছেন তো !...
- কী ব্যাপার ? উদাস হয়ে গেলেন যে হঠাৎ! গল্প শেষ ? না কি বলার ইচ্ছে গেছে মরে ?
: কোনোটাই না। সেই ক্ষণে ফিরে গিয়েছিলাম। মানসলোকে পৌঁছে অবলোকন করছিলাম দৃশ্যটি। তাই একটু বিরতি নিলাম।
- সে কী ! আপনার গলা ধরে এসেছে- চোখও জলে ভরে উঠছে- কী হলো ?
: পড়াশোনায় খুব ভালো ছিলাম তো, রেজাল্টও ভালো হতো, তাই একথা কখনও ভুলতাম না যে, ‘আমাকে এত বড়ো হতে হবে যেন গ্রামের মানুষ আমাকে নিয়ে গর্ব করতে পারে।’
সেটা অবশ্য হয়েছেও। গ্রামে আমার নামে রাস্তা হয়েছে, স্কুল হয়েছে, পাঠাগার হয়েছে। গেল বছর থেকে পদক দেওয়া হয় আমার নামে। শিক্ষাবৃত্তি দিতে শুরু করেছি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই।
যা চেয়েছি, সব পেয়েছি ; সব। ঠিক যেন রূপকথার গল্প ! কিন্তু কেন জানা নেই সবকিছুই এখন তুচ্ছ মনে হয়। নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মনে হয়।
- কেন ? আবারও গুলিয়ে ফেলছি। মানসী কি আপনার ঘরণী হয়েছে ?
: মানসীকে বিয়ে করতে পেরেছি কি না, বা করেছি কি না সেটাই জানতে চাচ্ছেন তো ?
- খুব স্বাভাবিক, এই মাত্র আপনি বলনে না যে, সব পেয়েছি সব ?
: হ্যাঁ, বিয়ে বয়সকালে সময়মতোই করেছি। তবে, পারিবারিক পছন্দে। মানসীকে কি সত্যিই চেয়েছিলাম ? চাইলে নিশ্চয়ই ওকেও পেতাম অর্থ-খ্যাতি-যশ-বাড়ি-গাড়ির মতোই। মন থেকে সত্যিই কিছু চাইলে সৃষ্টিকর্তা বা প্রকৃতি ফেরায় না কাউকেই।
- আমিও সেটা বিশ্বাস করি। অপেক্ষা করি। ধৈর্য ধরি।
: মাঝখানে, নিজেকে দাঁড় করাতে গিয়ে বেশ কয়েকবছর ইচ্ছে করেই গ্রামে যাইনি। শুধু ঈদে যেতাম। চাঁদরাতে গিয়ে একদিন পরই ফিরতাম। নুরুর সংস্পর্শ সতর্কভাবেই এড়িয়ে চলতাম। যাই হোক, বর্তমানে ফিরে আসি- আমার স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত, আধুনিক নারী। সে তার মতো স্বাধীন, আমি আমার মতন চলছি-ফিরছি। কেউ কারও চলার পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়াচ্ছি না। দুই ছেলেমেয়ে আছে আমাদের। মেয়ে বড়ো। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করা স্থপতি। ছেলে ছোটো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ করে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করছে। থাকি ঢাকার অভিজাতপাড়ায় ৩২০০ স্কয়ার ফুটের নিজের কেনা ফ্ল্যাটে। নিজের গাড়ি নিজেই ড্রাইভ করি সবসময়। বছরে-দু’বছরে সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ করতে পারি। তবুও যেন কী নাই-নাই বোধ কাজ করে অবকাশে-অবসরে। নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলার সুযোগ হলেই কী এক খেদ বা আত্মগ্লানি তাড়িয়ে বেড়ায়। তখন এরকম উদাস হয়ে যাই। মনের মতন শ্রোতা পেলে মনঝুলি থেকে একেকটা জগদ্দল পাথর গুঁড়িয়ে দিয়ে, উড়িয়ে দিয়ে হালকা হই।
- এ আপনার দুঃখবিলাস ; যার কোনোই মানে নেই।
: হয়তো ‘হ্যাঁ’- হয়তো ‘না’।
আচ্ছা, শেষ করি। পথ ফুরিয়ে আসছে।
‘মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট’ পরীক্ষার ফল অভাবনীয় ভালো হলো। তখন আর আমাকে পায় কে ! সবরকম পিছুটান, মায়া ত্যাগ করে চলে এলাম ঢাকায়। ঢাকা কলেজে ভর্তি হলাম। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়েছি। কল্পনা-মানসীর প্রশংসার ফুলঝুড়িকে বাস্তবে রূপ দিয়ে চাকরির পাশাপাশি মিডিয়াতেও ব্যস্ত হয়েছি কথক হিসেবে, বক্তা হিসেবে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই শুরু হয়েছিল।
মোটামুটি আখের গুছিয়ে নেওয়ার পর থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়মিতই যেতাম, ছুটি পেলেই। তবে হ্যাঁ, নুরুকে কখনো জানতে দিতাম না। বাড়ির মধ্যেই থাকতাম। গাছ লাগাতাম। বাগান করতাম। ফল-ফুলের বাগান করেছি। আরও পরে বাড়ির পাশের রাস্তা পুরোটাই পাকা করে দিয়েছি।
- মূল সড়ক ছেড়ে গলিতে ঢুকে পড়লেন যে! ‘ঝিনুকের বুকে মুক্তাসম’ লুকিয়ে রেখেছেন যাকে, তাকে কখনো দেখতে ইচ্ছে হয়নি পরে ? পরিচয় গোপন করে, ঢাকাইয়া চলচ্চিত্রের মতন ছলে-বলে-কৌশলে তাকে দেখতে যাননি কখনো ?
: প্রয়োজন হয়নি।
- প্রয়োজন হয়নি ! আশ্চর্য মানুষ তো আপনি !
: বলছি। বলতে দিন।
- স্যরি, বলুন বাকি ইতিহাস।
: বয়স ততদিনে চল্লিশ পেরিয়েছে। ‘শিক্ষাবৃত্তি’ দিতে গ্রামে এসেছি। মঞ্চ সাজিয়ে অনুষ্ঠান চলছে স্কুলের মাঠে। বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ থেকে নামতেই দৌড়ে এলেন হাড়গিলা শরীরের একজন বৃদ্ধ। প্রথম দেখায় বুঝতে পারিনি। এসে, জড়িয়ে ধরে পরিচিত ভঙ্গিতে কথা বলে উঠতেই চিনতে পারলাম- নূরু ; নূরুল করিম। চেনাই দায়! জোর করে ধরে বাড়িতে নিয়ে যাবেই। দুপুরে খাওয়াবে, তারপর ঘুরাবে, আরও কত কী প্ল্যান ! চোঙ্গা মাইকের ঘোষণা শুনে নাকি রাজ্যের কাজ ফেলে ছুটে এসেছে আমাকে পাকড়াও করে নিয়ে যেতে। দেখ দেখি কী কাণ্ড ! ওকে অনেক কষ্টে বুঝিয়ে, শান্ত করে কথা দিলাম- রাতে তোর বাড়িতে নিশ্চয়ই যাব। এখন স্কুল-কমিটির সবার সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতেই হবে। ওরা ব্যবস্থা করে রেখেছে। তারপর ওদের সঙ্গেই জরুরি মিটিং-এ বসব। বিকালে বাড়িতে ফিরব। তুই বরং সন্ধ্যার আগে আগে এসে নিয়ে যাস তোর অতিথিশালায়। দেখে আসব, তোর সংসার কেমন সাজিয়েছিস।
খুশি মনে বিদায় হলো নূরু। এদিকে আমি মিটিং শেষ করে বাড়িতে ফিরতে ফিরতে বিকাল পার করে ফেললাম। সন্ধ্যা আসন্ন। আমিও ক্লান্তপ্রায়। বাড়িতে পা দিয়েই দেখি নূরু দাঁড়িয়ে। কোনোরকমে একটু ফ্রেশ হয়েই, পোশাক পাল্টে বের হলাম। রাস্তায় ধীরকদমে হাঁটতে হাঁটতে এ’কথা-সে’কথা বলতে বলতে রাত নেমে এল। পথে পরিচিত আরও কতজনের সঙ্গে যে দেখা হলো ! কত স্মৃতি রোমন্থন হলো। মোড়ের চা-দোকানেও একটু বসে যেতে হলো। নূরুর বাড়িতে রাতের খাবার খাব, সেরকমই কথা হয়ে আছে। কিছু ফল কিনলাম ওর বাড়ির সবার জন্য। তারপর হেঁটেই গেলাম। বাড়িতে ঢুকেই বললাম, ‘আগে ছোটোঘরের কাজ সেরে, হাত-মুখ ধুয়ে তারপর অন্দরমহলে যাব। তুই এই ফলগুলান ঘরে নিয়া রাখ।’ ‘আইচ্ছা। তাই-সই। আয় এইদিকে।’ টিউবওয়েল দেখিয়ে দিয়ে নূরু গামছা আনতে গেল। যাওয়ার আগে কলপাড়ের লাইট জ্বালিয়ে দিল।
ভিতরের ঘর থেকে ছেলেমেয়ের পড়ার আওয়াজ ভেসে আসছে। আমি ছোটোঘর থেকে বেরিয়ে টিউবওয়েলের কাছাকাছি পৌঁছতে-না-পৌঁছতেই পাকশালা থেকে মধ্যবয়সী একজন নারী ত্রস্তপায়ে অনেকটা প্রায় দৌড়ে এসেই বলা চলে টিউবওয়েল চেপে দিতে লাগলেন। ততক্ষণে নূরু ফিরেছে গামছা নিয়ে। সেই মহিলার কাঁধে গামছাটা ফেলে বলল, ‘আমার বউ। চিনতে পারসোস ?’
‘বন্ধুর সঙ্গেই তো মশকরা করবি- কর। আজকেই তো প্রথম দেখলাম। কী করে চিনব ? আসসালামু আলাইকুম ভাবি।’
সালামের উত্তর দিলেন ভাবি মিনমিনে স্বরে, শোনাই গেল না প্রায়। কারণ, বিস্ময়ভরা কণ্ঠে নূরু চেঁচিয়ে উঠল- কী কস্ ! ভালো কইরা দ্যাখ্। চিনবি- ঠিকই চিনবি।
কৌতুকের হাসি হাসতে হাসতে নূরু ঘরে গেল। আমি ওর কথায় পাত্তা না-দিয়ে ঝুঁকে দাঁড়ালাম হাত-মুখ ধুতে। সেই মহিলা তখন হঠাৎ করেই চাপা করুণ স্বরে অভিযোগ করলেন- আমি আপনের কী ক্ষতি করসিলাম ? ক্যান আপনে উনারে বানায়া বানায়া আমার নামে মিথ্যা কথা বললেন ?
হার্ট-বিট মিস করলাম। বজ্রাহতের মতন দাঁড়িয়ে পড়লাম। চামড়া ঝুলে পড়ছে, জীর্ণ মলিন চেহারা-পোশাক, চুলে পাক ধরেছে, কিছুটা কুঁজোও হয়ে গেছে। আমার সামনে এখন যে দাঁড়িয়ে আছে, এই মহিলার জন্যই কি একসময় মনে মনে দেবদাস বনেছিলাম ! স্ত্রীর চেহারার সঙ্গে মনে মনে তুলনা করে বুঝলাম, জীবনযাপন পদ্ধতি আর খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে এনে আমার স্ত্রী নিজেকে এবং একইসঙ্গে আমাকেও কী ফিটই না রেখেছে।
অবিশ্বাস্য ! এই কি সেই মেয়ে ? নূরু এ কী চমক দেখালো ! এদিকে নূরুর বউ কান্নামাখা চাপা অথচ ঘ্যানঘেনে স্বরে তখনো বলেই চলেছে, আপনের কথাগুলান শুইন্যা, বিশ্বাস কইরা আপনে ঢাকায় যাওয়ার পরপরই উনি বাবার কাছে আমার শ্বশুরের পাঠাইলেন বিয়ার কথা কইতে। বিয়া হওয়ার পর থেইকা একদিনের জন্যও শান্তি পাই নাই। বাসর রাইত থেইকাই সেই যে শুরু হইলো সেইসব কথা তুইলা খোঁটা দেওয়া, পোলা-মাইয়ার বাপ হওনের পরও থামে নাই। আমার কথা বিশ্বাসই করে না। আজকেও খোঁটা দিছে। আপনেরে আশ্রয় দিয়া, খাওন দিয়া, পড়ার সুযোগ কইরা দিয়া কী দোষ করসিলাম আমরা... ? হ