কবিতার ছন্দে স্বপ্ন বুনছেন নুসরাত ইয়াসমিন রুম্পা

27 Aug 2026, 03:22 PM আবৃত্তি শেয়ার:
কবিতার ছন্দে স্বপ্ন বুনছেন নুসরাত ইয়াসমিন রুম্পা


উচ্চারণ, অনুভূতি ও উপস্থাপনার সমন্বয়ে আবৃত্তিকে জীবনের অংশ করে নিয়েছেন নুসরাত ইয়াসমিন রুম্পা। ছোটোবেলায় মায়ের হাত ধরে গেন্ডারিয়ার ‘কিশলয় কচিকাঁচার মেলা’য় আবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত হওয়া। এরপর প্রতিযোগিতা, মঞ্চ ও সাংস্কৃতিক নানা আয়োজনে নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে তার দীর্ঘ পথচলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেও আবৃত্তির জগৎ থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি। বরং বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির এই দুই ভিন্ন জগতকে পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এখন তার স্বপ্ন। নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে আবৃত্তির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা। আবৃত্তি শিল্পের বর্তমান পরিবর্তন, অনুশীলন, সামাজিক ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে আনন্দভুবনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন শহিদুল ইসলাম এমেল...



মায়ের হাত ধরে আবৃত্তির জগতে

আবৃত্তির সঙ্গে রুম্পার সম্পর্কের শুরুটা পারিবারিক অনুপ্রেরণা থেকে। তার মা ছেলেবেলায় গান করতেন, খালাও ছিলেন সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করার সুবাদে মায়ের মনে কবিতা ও আবৃত্তির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। নিজে কবিতা আবৃত্তি করতে না-পারলেও দুই মেয়েকে কবিতা শেখানোর ইচ্ছা ছিল তার।

তখন পরিবার নিয়ে থাকত গেন্ডারিয়ায়। আশপাশে খোঁজ করতে গিয়ে মা জানতে পারেন ‘কিশলয় কচিকাঁচার মেলা’র কথা। সেখানেই শুরু হয় রুম্পার আবৃত্তির প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা। মায়ের হাত ধরে সেই যে আবৃত্তির জগতে প্রবেশ, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

প্রথমদিকে কবিতা আবৃত্তি করতে না পারলেও নানা ছড়া মুখস্থ ছিল তার। ‘বাবুরাম সাপুড়ে’, ‘আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা’সহ বিভিন্ন ছড়া ছিল তার শৈশবের সঙ্গী। তবে, প্রতিযোগিতার জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে যে কবিতাটি আবৃত্তির উপযোগী করে তাকে প্রস্তুত করা হয়, সেটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানুষ’।


মঞ্চ থেকে ডিজিটাল পর্দায় আবৃত্তি

সময়ের সঙ্গে আবৃত্তির চর্চা ও উপস্থাপনার ধরনেও বড়ো পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন রুম্পা। একসময় আবৃত্তি ছিল মূলত মঞ্চনির্ভর। বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন দিবসভিত্তিক আয়োজনেই সাধারণ দর্শকের কাছে আবৃত্তি পৌঁছাত। এখন ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে সেই পরিসর অনেক বিস্তৃত।

তার মতে, ডিজিটাল মাধ্যম আবৃত্তিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এই শিল্পকে নতুনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করেছে। একজন আবৃত্তিশিল্পীর কণ্ঠের সঙ্গে এখন চিত্র, ভিডিওগ্রাফি, কোরিওগ্রাফি ও নির্মাণশৈলীও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে, এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। রুম্পার ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সময় মানসম্মত আবৃত্তির চেয়ে ভিউ ও বাহবা পাওয়ার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়। ভালোভাবে অনুশীলন না করেও আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরি করে অনেকেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। এতে আবৃত্তির প্রকৃত শিল্পমান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আবৃত্তিতে কণ্ঠের চেয়েও উচ্চারণ গুরুত্বপূর্ণ

একজন আধুনিক আবৃত্তিশিল্পীর জন্য কণ্ঠ, অনুভূতি ও উপস্থাপনার গুরুত্ব থাকলেও রুম্পার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উচ্চারণ। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মানুষের কণ্ঠ আল্লাহ প্রদত্ত এবং আলাদা। কারও কণ্ঠ ভারি, কারও হালকা, কারও বা খানিকটা কর্কশ। নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে নিজের কণ্ঠকে পরিশীলিত ও নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব। কিন্তু তার আগে প্রয়োজন সঠিক উচ্চারণ।

আঞ্চলিক উচ্চারণকে তিনি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখেন। তবে, আবৃত্তির ক্ষেত্রে প্রমিত উচ্চারণ শেখা জরুরি বলে মনে করেন। তার মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভাষার একটি অভিন্ন যোগাযোগ তৈরি করতে প্রমিত উচ্চারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


কবিতা নির্বাচনে বয়স ও কণ্ঠের গুরুত্ব

কবিতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে রুম্পা প্রথমেই গুরুত্ব দেন বয়সকে। তার মতে- শিশু, কিশোর, তরুণ কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক- প্রত্যেক বয়সের জন্য কবিতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আলাদা ভাবনা থাকা উচিত। এর পাশাপাশি শিল্পীর কণ্ঠের সঙ্গেও কবিতার সামঞ্জস্য থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। যেমন প্রত্যেক কণ্ঠে সব গান মানায় না, তেমনি সব কণ্ঠে সব কবিতাও মানানসই নয়।

উৎসব ও বিশেষ দিবসভিত্তিক কবিতাও তার পছন্দের তালিকায় থাকে। স্বাধীনতাদিবস, বিজয়দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারিসহ দেশাত্মবোধক কবিতা তিনি বেশি আবৃত্তি করেন এবং শিশুদেরও এসব কবিতা শেখান। প্রিয় কবিদের তালিকায় সবার আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, এরপর কাজী নজরুল ইসলাম। পাশাপাশি শামসুর রাহমান ও নির্মলেন্দু গুণের কবিতাও তার বিশেষ পছন্দ।


‘আমাকে কী মাল্য দেবে দাও’- সবচেয়ে প্রিয়

নির্মলেন্দু গুণের ‘আমাকে কী মাল্য দিবে দাও’ কবিতাটি রুম্পার সবচেয়ে প্রিয়। ছেলেবেলা থেকেই তিনি কবিতাটি আবৃত্তি করে আসছেন। প্রথমদিকে কবিতাটির গভীর অর্থ পুরোপুরি উপলব্ধি না-করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর বক্তব্য তার মনে গভীরভাবে ছাপ ফেলেছে।

দেশের প্রতি নিবেদন এবং নিজেকে দেশের জন্য উৎসর্গ করার যে-অনুভূতি কবিতাটিতে প্রকাশ পেয়েছে, সেটিই তাকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে। এই অনুভূতিকে নিজের মধ্যে ধারণ ও অনুসরণ করতে চান তিনি।

স্মরণীয় সেই মেদিবস

আবৃত্তির দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন রুম্পা। পুরস্কারও পেয়েছেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। তবে, সাম্প্রতিক সময়ের একটি অভিজ্ঞতা তার কাছে বিশেষ স্মরণীয় হয়ে আছে।

মেদিবসে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নর্থব্রুক হল বা লালকুঠির খোলা উদ্যানে প্রায় সাড়ে পাঁচ মিনিটের একটি কবিতা আবৃত্তি করেন তিনি। খোলা মঞ্চে সাধারণ মানুষের সামনে তার পরিবেশনা শুনতে পুরো দর্শকশ্রোতা নীরব হয়ে যায়। পরিবেশনা শেষে দর্শকদের প্রশংসা তাকে আপ্লুত করে।

রুম্পার কাছে এই অভিজ্ঞতার বিশেষত্ব ছিল- সেখানে শুধু আবৃত্তিপ্রেমী বা বোদ্ধারা ছিলেন না ; ছিলেন নানা শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ। তাদের সামনে আবৃত্তি করে ভালোবাসা ও প্রশংসা পাওয়া তার কাছে ভিন্ন ধরনের অর্জন।


আবৃত্তি শেখায় কথা বলার সৌন্দর্য

নতুন প্রজন্মকে আবৃত্তির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সাংগঠনিক চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন রুম্পা। তার মতে, ব্যক্তিগতভাবে শেখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো সক্রিয় হতে হবে।

স্কুলে যেমন গান শেখানো হয়, তেমনি কবিতা আবৃত্তিকেও নিয়মিত চর্চার অংশ করা উচিত। কারণ আবৃত্তি শুধু একটি মঞ্চশিল্প নয় ; এটি মানুষের কথা বলার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষের কথা বলতে হয়। চাকরি, ব্যবসা কিংবা সামাজিক যোগাযোগ- সর্বত্র সুন্দর ও স্পষ্টভাবে কথা বলার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশুদের ছেলেবেলা থেকেই কবিতা পড়ার পাশাপাশি আবৃত্তির সঙ্গে পরিচিত করার আহ্বান তার।


নিয়মিত রেওয়াজই সাফল্যের চাবিকাঠি

একজন ভালো আবৃত্তিশিল্পী হতে হলে নিয়মিত অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন রুম্পা। তার মতে, প্রথমেই উচ্চারণের চর্চা করতে হবে। এরপর কণ্ঠ নিয়ন্ত্রণ ও কণ্ঠস্বরের অনুশীলন জরুরি। আবৃত্তি শিল্পীদেরও গানের শিল্পীদের মতো রেওয়াজ করা উচিত। তানপুরা বা হারমোনিয়ামের সহায়তায় কণ্ঠের নিয়মিত অনুশীলন আবৃত্তিশিল্পীর জন্য উপকারী হতে পারে। তার বিশ্বাস, নিয়মিত চর্চাই একজন শিল্পীর কণ্ঠকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং পরিবেশনাকে আরো পরিণত করে।


মঞ্চজুড়ে বিচরণ

রুম্পার উল্লেখযোগ্য পরিবেশনের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। রবীন্দ্রজয়ন্তীসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে নিয়মিত আবৃত্তি করেছেন তিনি। আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের স্বাধীনতাদিবস, বিজয়দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারির আয়োজনেও অংশ নিয়েছেন।

মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, রবীন্দ্রসরোবর ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তার আবৃত্তি পরিবেশিত হয়েছে। শিশুসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় শিশুদের নিয়ে দলগত পরিবেশনাও করেন। শিশুদের আবৃত্তি শেখানো এবং তাদের মঞ্চে তুলে ধরার কাজটিও তার শিল্পচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


স্বপ্ন- শিশুদের হাতে আবৃত্তির ভবিষ্যৎ

শৈশবে যে সংগঠনের মাধ্যমে আবৃত্তির সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই ‘কচিকাঁচার মেলা’র সঙ্গেই এখন শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন রুম্পা। নিজের অভিজ্ঞতা ও শেখা বিষয়গুলো নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।

তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও খুব স্পষ্ট। প্রতিটি শিশু যেন ছেলেবেলা থেকেই কবিতা, আবৃত্তি ও সঠিক উচ্চারণের সঙ্গে পরিচিত হয়। তার বিশ্বাস, শৈশবে তৈরি হওয়া এই ভিত্তি একজন শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।


আবৃত্তি শুধু শিল্প নয়, পরিবর্তনেরও শক্তি

রুম্পার কাছে আবৃত্তি নিছক বিনোদন বা মঞ্চ পরিবেশনা নয় ; এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও শক্তিশালী মাধ্যম। বাংলাদেশের ইতিহাসের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাসেও কবিতা ও আবৃত্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কবিতার ছন্দে প্রতিবাদ, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলা কিংবা সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরা- সবই মানুষের চেতনাকে নাড়া দিতে পারে। তার বিশ্বাস, যে মানুষ কবিতাকে ধারণ করতে পারে, সে সমাজকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শেখে।

নিজের অবস্থানও তিনি সেভাবেই ব্যাখ্যা করেন। সমাজ পরিবর্তনের দাবি না-করেও সমাজের অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর পরিবর্তনের চেষ্টা করতে চান তিনি।


বিজ্ঞান ও আবৃত্তি- দুই জগতেই সমান পথচলা

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা নুসরাত ইয়াসমিন রুম্পার শিক্ষাজীবনের শুরু মনিজা রহমান গার্লস হাই স্কুলে। সেখান থেকে মাধ্যমিক শেষ করে পড়াশোনা করেছেন সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান তার নিজের কাছে বিজ্ঞানের বেশ ‘খটমটে’ একটি বিষয়। রুম্পা বর্তমানে ডিএনএ এনালিস্ট, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত। চাকরিজীবনেও কবিতা আবৃত্তির চর্চা তাকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র পরিচয় ও আলাদা অবস্থান। অফিসের কাজে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া ও বিভিন্ন সভা পরিচালনায় শুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি রুম্পাকে সাহায্য করেছে। অফিসের সমস্ত মিটিং ও অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিত উপস্থাপনা করেন। একদিকে বিজ্ঞানের কঠিন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা ও পেশাগত জীবন, অন্যদিকে কবিতা ও আবৃত্তির আবেগময় জগৎ- দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারাকে তিনি পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।

এই দ্বৈত পথচলাই হয়তো তার সবচেয়ে বড়ো পরিচয়। একদিকে যুক্তি, গবেষণা ও বিজ্ঞানের জগৎ ; অন্যদিকে শব্দ, ছন্দ, অনুভূতি ও মানুষের মন ছুঁয়ে যাওয়ার শিল্প- দুই জগতের সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে নুসরাত ইয়াসমিন রুম্পার নিজস্ব পথ।

আর সেই পথের সামনে তার সবচেয়ে বড়ো স্বপ্ন- নিজে আবৃত্তি করার পাশাপাশি শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া কবিতার শক্তি। কারণ, তার কাছে আবৃত্তি কেবল উচ্চারণের শিল্প নয় ; এটি মানুষকে ভাবতে শেখায়, অনুভব করতে শেখায় এবং প্রয়োজনে সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতেও অনুপ্রাণিত করে।