অভিনয়শিল্পী ও উপস্থাপিকা নাবিলা ইসলাম বরাবরই বেছে বেছে কাজ করেন। ব্যস্ততা যখন তুঙ্গে, তখন নেন বিরতি। আর বিরতি নেয়ার মূল উদ্দ্যেশ্য ছিল মাতৃত্ব। ২০২৪ খ্রিষ্টব্দে এক কন্যা সন্তানের মা হন তিনি। এই সময় নাবিলা বনে যান পুরোদস্তুর গৃহিণী। সন্তান যখন একটু বড়ো হন, তখন আবার কাজে ফেরেন। নাবিলার বর্তমান কাজ ও নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়।
বিস্তারিত লিখেছেন শেখ সেলিম...
প্রতিজন নারীরই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখ পান মাতৃত্বে। নাবিলাও তার বাইরে নন। নাবিলার ব্যস্ততা যখন চরমে, ঠিক সেসময়ে তিনি মা হওয়ার জন্য মিডিয়া থেকে কিছুদিনের জন্য বিরতি নেন। মা হওয়ার পরও অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কাজ করেননি তিনি। সেসময়ে শুধু নিজের পরিবারকে সময় দিয়েছেন দর্শকপ্রিয় এই অভিনেত্রী। সন্তান যখন একটু বড়ো হয়েছে, ঠিক সেসময়ে বেছে বেছে কিছু কাজ করছেন। বর্তমানে তার অভিনীত একাধিক ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে বিভিন্ন চ্যানেলে।
নাটকের পাশাপাশি কাজ করছেন ওটিটি প্লাটফর্মেও।
অভিনয় করতে এসে কতটা প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে, জানতে চাইলে নাবিলা বলেন, প্রত্যাশার কতটা পূরণ হয়েছে না বলে যদি বলি, অভিনয় করছি সবাই গ্রহণ করছেন। এটা খুব ভালো লাগছে। সবসময় ভালো কাজের প্রত্যাশা করি। ওই জায়গা থেকে প্রত্যাশাটা সব সময় থাকবে। আমার এমন কিছু নাটকে কাজ করা হয়েছে, যেখানে সবাই আমার নাম ভুলে চরিত্রের নামে ডাকতেন।
আমি মনে করি এটা আমার জন্য একটি অর্জন। কেননা, আমাকে দর্শক যখন আমার অভিনীত চরিত্রের নামে ডাকে তখন মানে হয় আমি কাজটি ঠিকঠাক করতে পেরেছি। এটা ক্যারিয়ারের ভিত মজবুত হওয়ারও প্রমাণ দেয়।
নাটকের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নাম লিখিয়েছেন বড়োপর্দায়ও। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ‘যুদ্ধ জীবন’ শিরোনামের একটি সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি।
নাবিলার অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে। ছেলেবেলা থেকেই অভিনয়, কবিতা আবৃত্তি, গানের চর্চাসহ সংস্কৃতির নানা শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রথম কাজেই বাজিমাত করেন তিনি। এরপর ব্যস্ত হয়ে পড়েন নাটক, উপস্থাপনা ও মডেলিংয়ে।

বর্তমানে যে-ক’জন অভিনয়শিল্পী অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তাদের মধ্যে নাবিলা অন্যতম। তার প্রাণবন্ত অভিনয়ের জন্য নির্মাতা থেকে শুরু করে চ্যানেলগুলোও তার নাটক প্রচারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। শুধু টিভি চ্যানেলেই নয়, ইউটিউবেও বেশ জনপ্রিয়। আর তা সম্ভব হয়েছে তার পরিশ্রমের জন্য। সেটে খুব পরিশ্রম করেন। চরিত্রটিকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, দর্শকের কাছে সেরা অভিনয়টা কীভাবে পৌঁছানো যায়, এটাই থাকে নাবিলার মূল উদ্দেশ্য। সকলের সমন্বয়ে আলোচনা করে প্রতিটি কাজ করেন বলে কাজটি হয় সবার প্রিয়।
নাবিলা অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে ‘ভাইরাল হতে চাই’, ‘রকেট ভাই’, ‘লোফার’, ‘খেলোয়াড়’, ‘সিনেম্যাটিক’, ‘গৌতম’, ‘বেসিক আলী’, আশিষ রায়ের ‘ভালোবাসার রং’, ‘শট সার্কিট লাভ’, ‘নো অজুহাত’ প্রভৃতি। নাবিলা এখন খুব বেছে বেছে কাজ করছেন।
ছোটোপর্দার অন্যতম ব্যস্ত একজন অভিনয়শিল্পী নাবিলা ইসলাম। খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিপুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
নাবিলার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। পাহাড়-সমুদ্রের সঙ্গে বেড়ে উঠেছেন তিনি। এখনো সুযোগ পেলে সেখানে ছুটে যান এই অভিনেত্রী। স্কুলে পড়ার সময় গানের স্কুলেও ভর্তি হয়েছিলেন নাবিলা। কিন্তু বেশিদিন টেনে নিতে পারেননি। তার ভাষায়, আবৃত্তি-অভিনয়ের জন্য আমি রেডি থাকতাম। গান আমাকে দিয়ে হতো না। এখনো মনে আছে, শুক্রবার সকাল ১০টায় অভিনয় ক্লাস থাকত। সেগুলোর কথা প্রায়ই মনে পড়ে।
সপ্তম শ্রেণিতে প্রথম প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছেন নাবিলা। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় মুঠোফোন পেয়েছেন তিনি। স্মৃতিচারণ করে নাবিলা বলেন, বাসায় ল্যান্ড লাইন ছিল। আমার জন্য প্রথম ফোন কল এসেছিল ক্লাস ফাইভে থাকতে। মা ফোন রিসিভ করেছিলেন। আম্মু অনেক কষ্টে ছেলেটাকে বুঝিয়ে ফোন রেখে দিয়েছিলেন।